বর্ষায় বাড়ে ধসের শঙ্কা, কমে না ঝুঁকিপূর্ণ বসতি

রাঙামাটির পাহাড়

বর্ষা এলেই রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের শঙ্কা বাড়ে, তবে থামেনি পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপন। ২০১৭ ও ২০১৮ সালের ভয়াবহ পাহাড় ধসে ১৩১ জনের প্রাণহানির পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও গত ৯ বছরে সেসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি কমেনি; বরং বেড়েছে কয়েক গুণ।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বর্তমানে জেলায় ১২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৬ হাজার পরিবারের ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ চরম পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। শহরের শিমুলতলী, রূপনগর, সনাতন পাড়া, যুব উন্নয়ন ও রাঙাপানি এলাকায় পাহাড়ের দুই পাশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে এসব বসতি। শুধু রাঙামাটি সদর নয়, প্রায় সব উপজেলারই এখন একই চিত্র।

মৃত্যুঝুঁকি জেনেও নিজেদের বসতবাড়ি ছাড়তে রাজি নন স্থানীয় নিম্ন আয়ের বাসিন্দারা। শহরের ভেদভেদী নতুন পাড়ার বাসিন্দা মো. নাছির উদ্দিন বলেন, আমি ২০১৫ সাল থেকে এখানে আছি। যখন জায়গা কিনি তখন ভালো সড়ক, ইন্টারনেট বা ডিশের সুবিধা ছিল না, জায়গার দামও ছিল কম। এখন পাকা সড়কসহ সব সুবিধা পৌঁছে যাওয়ায় জায়গার দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। বর্ষায় আশেপাশে পাহাড় ধসের খবর শুনলে আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাই।

আরেক বাসিন্দা মো. ওমর ফারুক জানান, চার বছর ধরে জায়গা কিনে থাকার পর প্রতি বর্ষায় প্রশাসন এসে তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বললেও পুনর্বাসনের স্থায়ী ব্যবস্থা ছাড়া তারা নিজেদের ঠিকানা ছাড়তে চান না।

ভেদভেদী মুসলিম পাড়ার সমাজ প্রধান মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, ২০১৭ সালের পর এখানে অনেক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে যারা বাস করে তারা সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ, শহরে বাসা ভাড়া নেওয়ার সামর্থ্য নেই। সরকার আমাদের চলে যেতে বললে আমরা কোথায় যাব? সরকার যদি নিরাপদ জায়গা দেয়, তবেই সবাই চলে যেতে রাজি।

রাঙামাটি জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই শুধু প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ে। এটা না করে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা দরকার।

রাঙামাটি পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম ভুট্টো বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি স্থাপনের নিরুসাৎয়িত করতে হবে। যারা বসতি করে ফেলেছে সরকার তাদেরকে পুর্নবাসন উদ্যোগ নেয়া গেলে ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমে আসবে।

সার্বিক বিষয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, বর্ষার প্রস্তুতি হিসেবে সব দপ্তরের সাথে আলোচনা করা হয়েছে এবং নিয়মিত মাইকিং চলছে। বৃষ্টি শুরু হলেই যেন মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আসে, সেজন্য জেলাজুড়ে ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের পুনর্বাসন বা অন্য কোনো উপায়ে স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। যেহেতু এখানকার ভূমি ব্যবস্থাপনায় আইনগত অনেকগুলো পদক্ষেপ নিতে হয়, তাই কিভাবে বিষয়টি সহজ করে তাদের বসতি নিরাপদ করা যায়, তা নিয়ে আমরা সরকারের সাথে কাজ করছি।