মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলের ড্রয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। মাঠের পারফরম্যান্সে দলের দুর্বলতাগুলো যখন ঢাকঢোল পিটিয়ে সামনে চলে এসেছে, ঠিক তখনই ব্রাজিল শিবিরে চলল একচোট হাসির ফোয়ারা।
আর সেই হাসির কেন্দ্রে স্বয়ং দেশের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা ‘পোস্টার বয়’ নেইমার জুনিয়র!মরক্কো ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের মলিন পারফরম্যান্স নিয়ে সাংবাদিকরা যখন প্রেসিডেন্ট লুলাকে চেপে ধরলেন, তখন তিনি এক অদ্ভুত আর মজার সমাধান বাতলে দিলেন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা লিওনেল মেসিকে ব্রাজিলে উড়িয়ে আনার কথা ভাবছেন লুলা!মঙ্গলবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে উড়ন্ত জয় এনে দিয়েছেন মেসি। সেই প্রসঙ্গ টেনেই লুলা হেসে কুটিপাটি হয়ে বললেন, ‘আমি তো ভাবছিলাম ব্রাজিল দলে খেলানোর জন্য মেসিকেই হায়ার (চুক্তি) করে ফেলব কি না!’তবে রসিকতা পাশে সরিয়ে দেশের ফুটবলারদের ওপর ভরসাও রাখছেন লুলা। মরক্কোর সঙ্গে ড্র করাটা তার কাছে ‘মস্ত বড় কোনো বিপর্যয়’ নয়, কারণ মরক্কোই নাকি এই গ্রুপের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ
লুলার বলেন, ‘লোকে বলে, ব্রাজিলকে নিয়ে যখনই সবাই সবচেয়ে বেশি সন্দেহ প্রকাশ করে, তখনই নাকি তারা বিশ্বকাপ জেতে… দেখা যাক এবার কী হয়!’লুলা যখন মেসির স্বপ্নে বিভোর, তখন সেলেসাও শিবিরে আসল স্বস্তি ফিরিয়েছেন নেইমার। চোট আর অফ-ফর্মের টানাপোড়েনে প্রায় তিন বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর, ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা যখন বিশ্বকাপের স্কোয়াডে সুযোগ পান, অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছিলেন। তার ওপর গত মাসে যোগ হয়েছিল কাফ মাসলের ইনজুরি।সব শঙ্কা উড়িয়ে বুধবার অবশেষে ব্রাজিলের অনুশীলনে বল পায়ে নেমেছেন সেলেসাওদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
তবে মাঠে নেমেই চিরচেনা সেই ‘দুষ্টুমি’ ভুললেন না নেইমার। গা-গরমের হালকা সেশন শেষে সাংবাদিকদের দেখে চওড়া হাসিতে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী হে, আমাকে খুব মিস করছিলে নাকি?’নেইমারের এই হাসিমুখ কোটি ব্রাজিল ভক্তের বুকে শান্তি আনলেও, আগামী শুক্রবার হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে তিনি শুরু থেকেই মাঠে নামবেন কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রেখে দিয়েছে কোচিং স্টাফ।