মধুপুর উপজেলায় একটি রাস্তা পাকা করে নির্মাণ করার কাজ চলছিল। সেই রাস্তাকে নদী থেকে রক্ষা করতে নদীর ধারে গাইডওয়ালের মাধ্যমে প্যালাসেডিং দিয়ে ব্লগ বসানোর কাজও করা হয়। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই ১৫ দিনের মধ্যেই সেটি ধসে পরেছে।
ঘটনাটি উপজেলার ১নং কুড়ালিয়া ইউনিয়নের চাপড়ী-জয়নাতলী-বেতবাড়ী মোড় পর্যন্ত রাস্তার মলকা অংশের বংশাই নদীর পূর্ব পাড়ের রাস্তা রক্ষা বাঁধের প্যালাসেডিং দিয়ে বসানো ব্লগের প্রায় দুইশত মিটার অংশের চিত্র এটি।
নদীর এ অংশে গাইডওয়াল দিয়ে ব্লগ বসানোর কাজ করা হয়। কিন্তু সেই কাজ শেষ হওয়ার ১৫ দিন যেতে না যেতেই তা ধসে পরায় এখন রাস্তাটিও ভেঙ্গে পরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে । ঠিকাদারের দুর্নীতি ও প্রকৌশলীর সঠিক তদারকিতে অবহেলার কারণে এমন হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
চুনিয়া-মলকা রাস্তার জয়নাতলী মোড় হতে -চাপড়ী-বেতবাড়ী মোড় পর্যন্ত ২ কিমি ২০০ মিটার এ রাস্তাটি ২০২১-২০২২ অর্ধ বছরে প্রাক্কালিক মূল্য ২ কোটি ১৪ লাখ ১১৭৯০ টাকা ও চুক্তি মূল্য ১ কোটি ৯৯ লাখ ৫৩হাজার ৪২৪.৩৩৫ টাকা বরাদ্দ হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ির মেসার্স মিতু ট্রেডার্স কাজটি পায়। যার মধ্যে রাস্তা ও নদীর গাইডওয়াল দিয়ে প্যালাসেডিংয়ের মাধ্যমে ব্লগ বসানোর চুক্তিও থাকে। কিন্তু মিতু ট্রেডার্সের গড়ি মসির কারণে ২০২৪ সালের দিকে কিছু কাজ করার পর জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর আর ওই ঠিকাদরকে খুজে পাওয়া না গেলেও তারই প্রতিনিধি (সাব ঠিকাদার) নাম লিচু মিয়ার মাধ্যমে এ বছরের শুরুর দিকে আবার কাজ শুরু করে। যা ৩০ এপ্রিল শেষ করে। কিন্তু কাজটি ঠিকাদারের দুর্নীতি ও প্রকৌশলীর সঠিক তদারকিতে অবহেলার কারণে এমন হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মলকা গ্রামের আবু সাইদ দুখু জানান, যখন ব্লগ বসানোর কাজ করা হয় তখন ঠিকাদারকে বলেছি পাথর,বালি ও সঠিক পরিমাণে সিমেন্ট ব্যবহার করে করার জন্য। কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনেনি। বেতবাড়ী গ্রামের মো. হাতেম আলী মুন্সি জানান, ঠিকাদরের দুর্নীতির কারনে এমন নিম্নমানের কাজ হয়েছে। আমরা এ নিয়ে ইন্জিনিয়ারকে বললেও তারা সঠিক ভাবে না করায় কাজ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই ধসে পরে।
শামছুল হক বলেন, দুর্নীতিবাজ কন্টাকটর(ঠিকাদার) ও ইন্জিনিয়ারের কারণে কাজটি খারপ হওয়ায় ১৫ দিনের মধ্যেই ধসে পরেছে।
এ বিষয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিতু ট্রেডার্সের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া না গেলে তাদের সাব ঠিকাদার লিচু মিয়ার সাথে মুঠো মোবাইলে কথা হলে তিনি জানান,ব্লগ ধসে পরার খবর পেয়েছি। অসময়ে পানি হওয়া ও পাহাড় থেকে পানি ব্লগের নিচ দিয়ে চুয়ে পরার কারণে এমন হয়েছে। বলে জানান তিনি
উপসহকারী প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান বলেন, নদীতে অসময়ে পানি ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে হয়তো এমন হয়েছে। তবে ঠিকাদারের সাথে আমাদের এক বছরের চুক্তি আছে যদি কোথাও কোন সমস্যা হয় তাহলে তারা নিজ দায়িত্বে ঠিক করে দিবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম ভূইয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে উর্ধতন কতৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোন কিছু বলতে পারবো না।
জাহিদুল কবির
মধুপুর টাঙ্গাইল
তারিখ :১৯-০৫-২০২৬