রেল খাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ: ১৮০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতির নির্দেশ

রেল পরিবহন ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ও সেবার মানোন্নয়নে যুগান্তকারী নির্দেশনা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে।

সূত্র জানায়, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকা-পাবনা-ঢাকা এবং ঢাকা-খুলনা-ঢাকা রুটে দুটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় থাকা ডেমু ট্রেনগুলোকে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী কমিউটার ট্রেনে রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ কাজে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। যাত্রীসেবায় নতুন মাত্রা যোগ করতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্প দূরত্বের কমিউটার ট্রেনে টিকিটের মূল্যে ২৫ শতাংশ ছাড় প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে রেল খাতের উন্নয়ন দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রকল্প নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ এবং সেন্ট্রাল লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপ আধুনিকায়নের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় আধুনিক অ্যাসেম্বলিং সুবিধা সংযোজন করা হবে। অর্থায়ন নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে রেলের নিজস্ব জমিতে ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট স্থাপনে বিদেশি বিনিয়োগ ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি রেলওয়ে ওয়ার্কশপগুলোর আধুনিকায়ন এবং লোকোমোটিভ রক্ষণাবেক্ষণে সার্ভিস কন্ট্রাক্ট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা আমাদের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করেছে। মন্ত্রণালয়ের গাইডলাইন অনুসরণ করে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। রেল খাতে আধুনিকায়ন, যাত্রীসেবা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আসবে এবং যাত্রীসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।