সাতকানিয়া-বাড়িতে আটকে ধর্ষণ, মামলা থেকে বাঁচতে বিয়ের ‘নাটক’ধর্ষক কালামের

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ধর্ষণে  বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক মেয়েকে ধর্ষন করেন ৫০বছরের বয়স্ক এক লোক,ওই ধর্ষনে মেয়েটি হয়ে যায়  প্রেগন্যান্ট।
ফলে  আইনের ফাঁকফোকর থেকে বাঁচতে ধর্ষিতা নাবালিকাকে সাদা কাগজে ভূয়া বিয়ের নাটক সাজায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র,তবে এখনো বিয়ে হয়নি বলে দাবী করেন ধর্ষিতা মেয়েটির মা।
বুধবার সকালে সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গুরগুরি এলাকায় কাঠুরিয়া মো:ইসমাইলের বাড়িতে গেলে  এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
ঘটনায় অভিযুক্ত একই এলাকার প্রতিবেশী মৃত সুলতান আহমদের ছেলে  মো:আবুল কালাম(৫৫)।
মেয়েটির মা জানান,আজ থেকে ৯মাস আগে মূলত আবুল কালামের বউ যখন ছিলনা এবং আমরা যখন ছিলাম না তখন ওই সুযোগে আমার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েকে টেনে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মুখে কাপড়গুজে দিয়ে ধর্ষন করেন।
তবে আমার মেয়ে এসব বলতে জানেনা সে শারীরিক ভাবে বড় হলেও মানসিক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তাই আমাদের বলেনি।
তবে মা হিসেবে বিষয়টা আস্তে আস্তে খেয়াল করলে, এক পর্যায়ে বিভিন্ন ভঙ্গিতে আমাকে আবুল কালামের বিষয়টা বুঝিয়ে বলেন।
পরে আমরা মেডিকেল এ নিয়ে যায়,এদিকে মেয়ের স্বীকারোক্তি মত অভিযুক্ত কালামের পরিবার বিষয়টা স্বীকার করে আমাদের গোপন রাখতে বলেন।
এক পর্যায়ে ধর্ষক কালাম আর তার বউ মিলে আমার মেয়েকে বয়স্ক কালাম বিয়ে করবে বলে জানালে, স্থানীয় মান্যগন্য ব্যক্তিরা ও মসজিদের ইমান মিলে সাদা কাগজে বিয়ে করান।
৭লক্ষ টাকা দেনমোহরের বিনিময়ে তবে তা কাগজে কলমে, বৈঠকে বলেছে পরে আরেকটা বৈঠক হবে।
তখন কি করা যায় সমাধান হবে।
এদিকে আমার মেয়ের জন্মসনদ অনুযায়ী ১৫বছর হওয়ায় বৈঠকে কাজি মাহবুব কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে করায় দিবে বলেন।
এদিকে সরেজমিনে গেলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ধর্ষিতা মেয়েটি কোন রকম তাকে নষ্ট করার বিষয়টা আমতা আমতা করে  জানালেও বিয়ে কি জিনিস সেটা সে বুঝতেছেনা।
তার পিতা মো:ইসমাইল সে দিনমজুর করে খায়,সে বলে আসলে আমার থাকার কিংবা বসার জায়গা নেই,এনজিও থেকে লোন নিয়ে আর দিনে এনে দিনপ খেয়ে চলি,সামাজিক ভাবে যা করছে তার উপর কথা বলার সামর্থ্য কিংবা অর্থ কোনটাই আমার নেই।
তিনি আরো বলেন,ধর্ষনে আমার মানসিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েটি গর্ভবতী হলে মূলত তা গোপন ও কালাম মামলা থেকে বাচার জন্য মসজিদের ওঠোনে ইমাম আরিফ সাহেবকে দিয়ে বিয়ে পড়ান তবে মেয়েড বয়স হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, কালাম ধর্ষন করছে সেটা সত্য তবে কালাম তো ধর্ষন করছে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে সেটা জেনেশুনেই তবে কি ভুক্তভোগী মেয়েটিকে সে বিয়ে করবে?
আসলে বিষয়টা হাস্যকর।তবে কালামের বিরুদ্ধে ১শত টাকা খরচ করেও বিচার চাওয়ার মত ক্ষমতা ধর্ষিতা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ের পরিবারের নেই,ওই সুযোগের কারণে হয়তো আবুল কালামদের মত ধর্ষকের কিছুই হবেনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা প্রতিবেদককে বলেন, মেয়ের মা বাবাকে সামাজিক ভাবে প্রেসার দেয়া হয়েছে বিষয়টা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে,সবচেয়ে বড় কথা ধর্ষিতার পিতা গাছ কেটে ভাত খায়, চলতে অক্ষম।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন,সামাজিক ভাবে এখন বিয়ের নাটক সাজিয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক অসহায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে আবারো কোন অজুহাত ছাড়াই ধর্ষন করার লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে না তো  কালামের হাতে?
এদিকে  ,আইন বলেছে  বিয়ে হলেও ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ নাই। এটা আদালত থেকে  নিস্পত্তি হতে হবে।তবে সেক্ষেত্রে উভয়কে প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে।
এসব ক্ষেত্রে বিয়ে হবে আসামি গ্রেফতার হলে আসামি পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে  আদালতের সিদ্ধান্ত মোতাবেক  এই বিয়ে হওয়ার রিপোর্ট  সংশ্লিষ্ট আদালতে  যাবে এবং তারপর আদালত জামিন দেয়া না দেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবে।
আর ধর্ষণ মামলাটির ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী যেহেতু আর এগুবে না, সেজন্য পুলিশ আপোস মীমাংসা এবং বিয়ের বিষয়ে বিচারের আদালতে রিপোর্ট দেবে। আদালত সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে মামলা নিস্পত্তি করবে।
তবে এসব বিয়ের ক্ষেত্রে ২০২০সালে নভেম্বর মাসে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আইনমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম বলেছিলেন ধর্ষকের সাথে ক্ষতিগ্রস্তের বিয়ে: ‘ধর্ষণের অপরাধ আপোসযোগ্য নয়’