ভৈরবের মৌটুপি গ্রামে দুই বংশের সংঘর্ষে খুনের  ঘটনায় প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল মৌটুপি গ্রামে দুই বংশের দীর্ঘদিনের শত্রুতা চলে আসছে। ১৯৬৮ সাল থেকে কর্তা বাড়ির এক ব্যক্তিকে সরকার বাড়ির লোকজন খুন করেন। এঘটনার পর থেকে দুই বংশের লোকজনই খুনের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে।
গত ১৬ জুন, রোববার বিকেলে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কর্তা বাড়ি ও সরকার বাড়ির লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।  এসময় কর্তা বাড়ির নাদিম কর্তা নামে একজন গুরুতর আহত হয়। তিনদিন পর ১৯জুন, বুধবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাদিম কর্তা মৃত্যুবরণ করেন এবং বৃহস্পতিবার নিহতে লাশ দাফন করা হয়।
এঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্তা বাড়ি লোকজন প্রতিপক্ষ সরকার বাড়ির লোকজনের অর্ধশত বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
খুনের ঘটনায় সরকার বাড়ির শতাধিক পরিবার মামলা ও পুলিশের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে গোপনে বিভিন্ন আত্নীয় স্বজনের বাসায় আশ্রয় নেন।
উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম মৌটুপী। ওই গ্রামের সরকার বাড়ির মো: সাফায়েত সরকার সাদেকপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান। এঘটনায় চেয়ারম্যান সাফায়েত সরকারের বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাটসহ বিভিন্ন বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সাফায়তের সরকারের বোন তাসলিমা বেগম।
শনিবার বিকেলে সরজমিনে মৌটুপি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ীসহ অন্তত অর্ধশত বাড়িঘর প্রচন্ড ভাংচুর করা হয়েছে। এসব বাড়িরঘর ভাংচুর করে সকল আসবাবপত্র লুটপাট করে নিয়ে গেছে বলে ভুক্তভুগীরা অভিযোগ করেছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান সাফায়েত উল্লার বোন তাসলিমা বেগম জানান, প্রতিপক্ষের লোকজন নাদিমের লাশ দাফনের পর পর পুলিশের সামনেই তাদের বাড়িঘর ও সমর্থনদের বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে।
গত দুইদিন ধরে গভীর রাতে কর্তা বাড়ির লোকজন পুলিশের সামনেই আমাদের সরকার বাড়ীর বাড়িঘর ভাংচুর করে জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এসময় পুলিশের ভূমিকা ছিল নিরব। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভৈরব থানা পুলিশ।
ওই মৌটুপি গ্রামের দুটি বংশের মধ্যে চলমান শত্রুতা শুরু হয় দীর্ঘ ৫৪ বছর আগে। এই শত্রুতা বিরোধে এপর্যন্ত সর্বশেষ নাদিমসহ উভয় পক্ষের  ১২টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্য সরকার বাড়ীর  চেয়ারম্যানের দুই ভাই ওবায়েদ ও হেদায়েদ ও কর্তা বাড়ীর রইছ উদ্দিন , কফিল উদ্দিন ও নাদিম খুনের ঘটনা অন্যতম।
এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঈদের পরদিন থেকে গ্রামটিতে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে। কিন্ত গ্রামের উছৃংখল মানুষগুলি পুলিশকেও মানতে নারাজ।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একাধিকবার চেষ্টা করেও দুই বংশের বিরোধ মীমাংসা করতে পারছেনা। খুন মারামারি সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্য এখনও মামলা আছে প্রায় ডজন খানেক এবং আসামী হয়ে আছে প্রায় ৫শ মানুষ।  এসব মামলা আদালতে চলমান রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। গ্রামের কর্তা বাড়ীর বংশধর বৃদ্ধ আলফাজ উদ্দিন বলেন, ৫৪ বছর যাবত সরকার বাড়ীর লোকজন তাদেরকে অত্যাচার নির্যাতন খুন জখম করে আসছে। অপরদিকে সরকার বাড়ীর বংশধর চেয়ারম্যান সাফায়েত উল্লাহ বলেন, কর্তা বাড়ীর লোকজন তার দুইভাইকে খুন করেছে। দুই পক্ষই আপোষে মীমাংসার দিকে এগুতে রাজী না।
ঘটনার পর গতকাল শনিবার বিকেলে নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আবুল মনসুর ও ভৈরব পৌরসভার মেয়র ইফতেখার হোসেন বেনু গ্রামটি পরিদর্শন করেছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাংগীর আলম সেন্টু, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাকির হোসেন কাজল, শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি এসএম বাকি বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আতিক আহমেদ সৌরভ সহ দলীয় নেতৃবৃন্দ নাদিমের নামাজে জানাজায় অংশ নিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহবান জানালেও তাদের কথা শুনছেনা তারা।