নৌকায় ভোট দিতে গাজীপুরের টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে গোপন সমঝোতা বৈঠক হয়েছে। এমন খবরকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে মারামারিতে আহত হয়েছেন দুজন।
আহতরা হলেন টঙ্গী থানা মৎস্যজীবী দলের সাবেক সভাপতি আমির হোসেন (৫০) ও টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান বাবু (৩২)। গতকাল বৃহস্পতিবার টঙ্গীর মিলগেট কো-অপারেটিভ মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গীতে বিএনপির দুটি পক্ষ আছে। এতে নেতৃত্ব দেন সাবেক এমপি হাসান উদ্দিন সরকার ও তাঁর ভাই গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সালাউদ্দিন সরকার। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে টঙ্গীর ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন সালাউদ্দিন সরকারপন্থী গাজীপুর মহানগর বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্য আবুল হাসেম। অভিযোগ উঠেছে, আবুল হাসেম নৌকার প্রার্থী জাহিদ আহসান রাসেলে পক্ষে কাজ করতে গত বুধবার টঙ্গীর নিউ অলিম্পিয়া টেক্সটাইল মিলের ভেতর আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে জাহিদ আহসান রাসেলের চাচা ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক মতিউর রহমান মতিসহ জ্যেষ্ঠ কয়েক নেতা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সেখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ২৭ জন করে মোট ৫৪ জন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে কাউন্সিলর আবুল হাসেমের নেতৃত্বে বিএনপির একটি দল নৌকার পক্ষে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বুধবারের ওই বৈঠকের খবর জানাজানি হলে টঙ্গী বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
একই বিষয়ের জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসান সরকারপন্থী হিসেবে পরিচিত টঙ্গী থানা মৎস্যজীবী দলের সাবেক সভাপতি আমির হোসেন ও কাউন্সিলর আবুল হাসেমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত টঙ্গী থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান বাবুর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে স্থানীয়রা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। হাতাহাতির কারণে আমির ও বাবু আহত হন।
আমির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নৌকার পক্ষে যাওয়ার জন্য বাবু চাপ দিলে আমি রাজি হইনি।
এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর করে। বিএনপির নেতা হাসেম কাউন্সিলার গোপন সভায় ভাষণ দিয়েছেন এটা সবাই জানে। এখন তিনি নানা কথা বলেন।’ তবে আব্দুর রহমান বাবু বলেন, ‘আমিরের সঙ্গে অন্য বিষয়ে ঝগড়া হয়েছে।’
বৈঠক ও অনুসারীর মারামারির বিষয়ে কাউন্সির আবুল হাসেম বলেন, ‘আমির হোসেন একটু ভিন্ন রকম লোক। সে যুবদল নেতা বাবুর নাক ফাটিয়ে দিয়েছে। এত দুজনই আহত হয়েছেন। এ ঘটনাটা পত্রিকায় দিয়েন না। আপনি এক সময় আসেন চা খাই।’
সমঝোতা বৈঠকের বিষয়ে আবুল হাসেম বলেন, ‘আমি নিউ অলিম্পিয়া টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান। আমার এমডি আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান। এমডির ফোনে আমি ওখানে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি নৌকা প্রতীকের সভা চলছে। আমার কাছেও তারা ভোট চেয়েছে। সেখানে কোনো সমঝোতা হয়নি।’