সরকারের লক্ষ্য বিরোধী পক্ষের কাউকে নির্বাচন করতে না দেয়া

ইন্দো প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি সেমিনারে মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যত ও ইন্দো প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির বিদেশ বিষয়ক কমিটির সদস্য ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের সঞ্চালনায় এতে কি-নোট পাঠ করেন কমিটির টিম লিডার ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

কি-নোট পেপারে আমির খসরু মাহমুদ উল্লেখ করেন, ইন্দো-প্যাসিফিকের প্রাণকেন্দ্রে বাংলাদেশ। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি বঙ্গোপসাগরের মুখে অবস্থিত। স্থলপথে বিশ্বের দুটি মহাশক্তি এবং নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের সঙ্গে এর ভৌগোলিক নৈকট্য দেশটিকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভূ-কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। সেমিনারে আমির খসরু বিএনপির ইন্দো প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি তুলে ধরেন। দেশের ভবিষ্যত গণতন্ত্র ও দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এসময় ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি জয়ী হবে’ বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত কূটনীতিকদের সামনে বিএনপির চলমান আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের একটাই লক্ষ্য বিরোধী কেউ যেন নির্বাচন করতে না পারে। এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তারা আবার ক্ষমতায় যেতে চায়। তবে আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা জনগণের দাবি আদায়ে সক্ষম হবো।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত সংকটময় সময় অতিক্রম করছি। বেগম জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। বিনা চিকিৎসায় মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছেন তিনি।’ সেমিনারে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিয়ে বিএনপির ৩৬ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে নিরাপদ ও স্থিতিশীল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিশ্চিতে বিএনপি কাজ করবে। সেমিনারে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটসহ যুগপৎসঙ্গীরাও অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।