মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি ও ফসলি জমি ভেকু দিয়ে কেটে অবৈধভাবে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ওই এলাকার দিপালী রানী করসহ ভুক্তভোগী পরিবারগুলো কৃষি জমি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিবাদ করতে গেলে প্রভাবশালীরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সমেজঘর মৌজার ১২৩৪ ও ৯০৯ দাগের জমিটি দিপালী রানী কর ও তার পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি। এই জমিটিই তাদের শেষ সম্বল। অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রকার অনুমতি বা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গত কয়েকদিন ধরে জমিটির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ চালানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগী দিপালী রানী কর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী মারা গেছেন, সংসার চালানোর মতো আর কেউ নেই। এই জমি টুকুই আমার শেষ ভরসা। যদি এই জায়গাটুকু চলে যায়, তবে আমি না খেয়ে মরবো। আমি রাস্তা নির্মাণের বিরোধী নই, কিন্তু সেটি যেন সঠিক জায়গা দিয়ে হয়। আমরা বাধা দিতে গেলে প্রভাবশালীরা রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে আমাদের হুমকি দিচ্ছে।”
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় নারী মেম্বার মোসা. আকলিমা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভুক্তভোগীরা আমার কাছে এসে বিষয়টি জানানোর আগ পর্যন্ত আমি কিছুই জানতাম না। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখলাম, যেদিক দিয়ে রাস্তা হওয়ার কথা, সেটি বাদ দিয়ে ভুক্তভোগীদের ফসলি জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়া হয়েছে এবং মাটি কাটা হয়েছে। আমি এই অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত সরেজমিনে তদন্তপূর্বক সঠিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছি।”
তবে ভিন্ন সুর শোনা গেছে রাস্তা নির্মাণ কমিটির সভাপতি মনিরের কণ্ঠে। তিনি বলেন, “সরকারি নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত জায়গা দিয়েই রাস্তা করা হচ্ছে। কারো ব্যক্তিগত জায়গায় রাস্তা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। কারো সাথে কোনো ভয়ভীতির ঘটনা ঘটেনি। বরং তারা শুরুতে সহযোগিতা করেছিলেন এবং রাস্তার ওপর রাখা খড় সরিয়ে দিয়েছিলেন, যার জন্য আমি খুশি হয়ে তাদের ৫০০ টাকা দিয়েছিলাম।”
এদিকে, তেওতা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. মাসুদুর রহমান মাসুদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ” আমার জানামতে এটি সরকারি রাস্তা আমি ২০২৫ সালে একবার সরকারি নকশা অনুযায়ী জায়গা নির্ধারিত মাপ দিয়েছিলাম, ভুক্তভগীদের বলেছি ইউনিয়ন পরিষদে এসে আবেদন করলে আবার জায়গা পরিমাপ করে দেখবো। কিন্তু এ রাস্তার কাজ আমি করছিনা, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা করা প্রয়োজন।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার বলেন, “রাস্তা নির্মাণের শুরুতে আমাকে জানানো হয়নি। এখন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমি দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করব এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের শেষ সম্বল রক্ষায় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।