বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসনে পদায়ন, ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) এবং কর্মকর্তাদের পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়ম ও প্রশাসনিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, যা নিয়ে রেল প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চট্টগ্রাম রেলওয়ের সাবেক সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক শরিফুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে ঠিকাদারদের কাছে কমিশন দাবি করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ভিডিও প্রকাশের পর তাকে প্রথমে পদোন্নতি দিয়ে ঢাকায় বদলি, পরে ওএসডি এবং পরবর্তীতে রাজশাহী ও সৈয়দপুর অঞ্চলের সিনিয়র সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রাম পাহাড়তলীর প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল হোসেন সরকার ও অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল ইসলামকে ঘিরে একাধিক প্রশাসনিক আদেশ জারি ও বাতিল হয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, মার্চ ও এপ্রিল মাসে তাদের পদায়ন ও দায়িত্বে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়, যা নিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এছাড়া পাহাড়তলীর কেপিআই এলাকায় সরকারি মালামাল একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে বহনের চেষ্টা ধরা পড়ার ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিরাপত্তা কর্মকর্তা রফিকউল্লাহ ওই মালামাল আটকে দিলে পরবর্তীতে তাকেই বদলি করা হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল হোসেন সরকারের বক্তব্য নিতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও শুরুতে তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা হলেও ক্যামেরা ও রেকর্ডিং যন্ত্র ছাড়া সাক্ষাৎকার দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বেলাল হোসেন সরকার ও আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিষয়গুলো রেল মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়েছে এবং তারা কেবল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বেলাল হোসেন সরকার এবং রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রেল খাত নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। তাদের ভাষ্য, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে রেলওয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থাও আরও সুদৃঢ় হবে।