পূর্ণমন্ত্রী হচ্ছেন মীর শাহে আলম!

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে সংসদ সদস্য, এরপর প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব—রাজনৈতিক যাত্রার প্রতিটি ধাপে চমক দেখিয়েছেন মীর শাহে আলম। এবার সেই রাজনৈতিক মুকুটে যুক্ত হতে পারে আরও একটি বড় প্রাপ্তি। গুঞ্জন চলছে, বর্তমান প্রতিমন্ত্রী থেকে এবার পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে কেবিনেটে পদোন্নতি পেতে যাচ্ছেন তিনি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই নতুন সমীকরণের পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

জনপ্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট বেশকিছু সূত্র বলছে, বর্তমান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে পা রাখার দোরগোড়ায় পৌঁছানোর জোর গুঞ্জন চলছে।

যদি এই গুঞ্জন সত্যি হয়, তাহলে শূন্য হওয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন বর্তমান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

অবশ্য এই দৌড়ে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নামও সম্ভাবনার তালিকায় রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পরেই মন্ত্রিসভার এই রদবদল ও নতুন মুখের বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলেও জানা গেছে।

মীর শাহে আলমের পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার গুঞ্জনে কেবিনেট মহলের পাশাপাশি বিশেষভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস। ১৯৯১ সালের পর বগুড়া জেলা থেকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ সময় কেবিনেটে কেউ দায়িত্ব পাননি।

১৯৯১ সালে বগুড়া-৬ সদর আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমানকে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ ওই খরা কাটিয়ে ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মীর শাহে আলম।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে ত্রয়োদশ নির্বাচনে ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মীর শাহে আলম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা শাহাদুতজ্জামান পেয়েছিলেন ৯৩ হাজার ৫৮৪ ভোট।

জেলা বিএনপির সহসভাপতি মীর শাহে আলমের রাজনৈতিক শিকড় বেশ গভীরে। ১৯৯৭ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে শিবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি থাকা অবস্থায় তিনি স্থানীয় আটমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এরপর ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করার পর এবার জাতীয় সংসদের আঙিনায় পা রাখেন তিনি।

অন্যদিকে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে তার শূন্য হওয়া সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফখরুলের পরিবারের কোনো সদস্যকে এই আসনে প্রার্থী করা হবে, নাকি দলীয় অন্য কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—তা নিয়েও এখন চলছে জোর আলোচনা।