র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। প্রতিষ্ঠার ২২ বছরে জঙ্গিবাদ, মাদক ও অপরাধ দমনে মানুষের আস্থায় থাকলেও, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে বিতর্কিতও হয়েছে এলিট বাহিনীটি।
৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর র্যাব বিলুপ্তির পক্ষে দাবি তোলে মানবাধিকারকর্মী ও সংগঠনগুলো। তবে বিলুপ্ত না করে নতুন নামে নতুন আঙ্গিকে বাহিনীটি রাখতে চেয়েছে সরকার। এ নিয়ে খসড়া আইন প্রণয়ন ও আলাপ-আলোচনার পর, র্যাব বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন ২০২৬-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
এখন প্রশ্ন হলো, র্যাব ও এসআরবির মধ্যে পার্থক্য কোথায়? এসআরবি আইনে আছে, কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে তা দ্রুত প্রতিকার করবে বাহিনীটি। অভিযোগ নিষ্পত্তিতে একটি কমিটি কাজ করবে। যা আগে ছিল না। এছাড়া, এসআরবি পরিচালিত হবে একটি আইন দিয়ে, যে আইনটুকুও আগে ছিল না।
এ বিষয়ে র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, একটা বাহিনী তার পরিচালনার জন্য আইন ও বিধি একান্তই প্রয়োজন। এর একটা ঘাটতি ছিল। তো, আমি এই উদ্যোগে সাধুবাদ জানাই। র্যাব যে কারণে এত বেশি নিন্দিত, সমালোচিত—সেই গুম, খুন, ক্রসফায়ার, আয়নাঘর—এ থেকে হয়তো মুক্তি পাবে, যদি এই আইনটি পুরোপুরি কার্যকর হয়। একজন সদস্যের হেড কেন হবে? কেন একজন অবসরপ্রাপ্ত জাস্টিস বা অন্য কেউ কেন হলো না? এই নিয়ে কথা থাকবে। তবে যতটুকু হয়েছে, এটা মন্দ নয়।
এসআরবি ব্যাটালিয়নের অভিযোগ প্রতিকার কমিটিতে অতিরিক্ত মহাপরিচালকের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও এসআরবি সদর দপ্তরের একজন করে প্রতিনিধি এবং আইন-বিচার-প্রশাসন বা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা অভিজ্ঞ কাউকে সরকার নিয়োগ দেবে। তবে, নাম পরিবর্তন ও অভিযোগ তদন্তের একটি কমিটি করে সত্যিই কি আসবে পরিবর্তন?
তবে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, র্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে কমিটির কাছে যাবে এবং তারপরে তারা তদন্ত করবে। কমিটিতে কারা আছে? একজন হলো র্যাবেরই এডিজি, একজন, অন্য দুজন হলো আমলা, সিনিয়র আমলা। চতুর্থ হলো গিয়ে সরকার অ্যাপয়েন্টেড কোনো একজন হিউম্যান রাইটস ওয়ার্কার। পঞ্চম হলো গিয়ে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের জার্নালিস্ট। এই অবস্থা যদি হয়, যেখানে আপনার ফোর আউট অফ ফাইভ হলো সরকারি মনোনীত বা সরকারি লোক নিজে। তাহলে ওটা কীভাবে স্বাধীন তদন্ত বলা যেতে পারে? শুধুমাত্র নাম পরিবর্তন করে, অর্থাৎ আকিকা করে স্যাংশন বাস্টিংয়ের দিকে যায়, এটা দুঃখজনক হবে।
তবে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, র্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে কমিটির কাছে যাবে এবং তারপরে তারা তদন্ত করবে। কমিটিতে কারা আছে? একজন হলো র্যাবেরই এডিজি, একজন, অন্য দুজন হলো আমলা, সিনিয়র আমলা। চতুর্থ হলো সরকার অ্যাপয়েন্টেড কোনো একজন হিউম্যান রাইটস ওয়ার্কার। পঞ্চম হলো গিয়ে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের জার্নালিস্ট। এই যদি হয় অবস্থা, যেখানে আপনার ফোর আউট অফ ফাইভ হলো সরকারি মনোনীত বা সরকারি নিজের লোক, তাহলে ওটা কীভাবে স্বাধীন তদন্ত বলা যেতে পারে? শুধুমাত্র নাম পরিবর্তন করে, অর্থাৎ আকিকা করে স্যাংশন বাস্টিংয়ের দিকে যায়, এটা দুঃখজনক হবে।
এসআরবি আইন কার্যকর হলে র্যাবের বর্তমান কাঠামো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। পরিপূর্ণ বিধিমালা প্রণয়ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র্যাবের বর্তমান জনবল এবং সম্পদ এসআরবির কাছে স্থানান্তর দেখানো হবে।