চট্টগ্রামে রাসায়নিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বানৌজা ঈসা খানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় এ ‘সিচুয়েশন্যাল ট্রেনিং এক্সারসাইজ (STX)’ অনুষ্ঠিত হয়।
কেমিক্যাল ডিজাস্টার রেসপন্স টিমের (CDRT) আভিযানিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ মহড়ায় আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৪১ জন সদস্য এবং নৌবাহিনীর ৪৫৫ জন সদস্য সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
মহড়ায় রাসায়নিক দুর্ঘটনাজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বিভিন্ন কৌশল অনুশীলন করা হয়। এর মধ্যে ছিল দুর্ঘটনাস্থল নিরাপদ করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ, রাসায়নিক পদার্থের বিস্তার রোধ, আক্রান্ত ও বিপদাপন্ন ব্যক্তিদের উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমও অনুশীলন করেন অংশগ্রহণকারীরা।
এ সময় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, উদ্ধারকারী সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা পারস্পরিক যোগাযোগ, দায়িত্ব বণ্টন ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত রাসায়নিক জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুশীলন করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (বিএনএসিডব্লিউসি) বিভিন্ন অংশীজনের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত ‘Basic Assistance and Protection Course for Responders (BAPCOR)’ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় এ যৌথ মহড়ার আয়োজন করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্দর, জাহাজ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য রাসায়নিক দুর্ঘটনা কিংবা অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের মহড়া গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার মাধ্যমে প্রাণহানি, সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তঃসংস্থাগত সক্ষমতা আরও বাড়বে।