তেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি ইরানের

কঠোর নিষেধাজ্ঞার পথে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বাণিজ্যিক অংশীদারদের লক্ষ্য করে সোমবার নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। এর জবাবে ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ চলতে থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সব ধরনের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) সংবাদ সম্মেলনে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেবেন। এর আগে তিনি আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
রোববার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে বেসেন্ট বলেন, ‘ভোর থেকেই শুরু হবে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’।’ তার দাবি, কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এর আগে যত বড় আর্থিক অভিযান চালানো হয়েছে, এটি তার চেয়েও বড়।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরান প্রায় ধারাবাহিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। এবার দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা অংশীদারদের লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াশিংটন।
এদিকে পাল্টা হুমকি দিয়েছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সব তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক হামলা হয়নি। একই সময়ে ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে কার্যকর আলোচনাও হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে ইরান ও লেবাননে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। হামলায় ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির অর্থনীতিতেও ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। সংঘাতের সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও নিহত হন।
নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধের হুমকিতে দুই দেশের সংঘাত সামরিক ক্ষেত্রের বাইরে আরও বড় অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।