নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে স্বাস্থ্য বিভাগ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ)-এর অংশগ্রহণে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার এবং সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে নগরীর লয়েল রোডের সিনেমা প্যালেস সংলগ্ন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ে এমএসএফের সহযোগিতায় আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, “ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। চট্টগ্রামের মানুষকে নিরাপদ ও ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে আমরা প্রস্তুত। তবে শুধু সরকারের পক্ষে এটি সম্ভব নয়; জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।”
তিনি জানান, ভেক্টরবাহিত রোগ প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) এবং এমএসএফের সমন্বয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বিবেচনায় প্রতি শনিবার স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার প্রতি চারটি বাড়ির মধ্যে একটিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। জুন মাসে বিভাগে ডেঙ্গু রোগী ছিল ৪০৫ জন, যা জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে বেড়ে ৪৮৫ জনে পৌঁছেছে। তাই ফুলের টব, পানির পাত্র, টায়ার কিংবা যেকোনো স্থানে যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জেলায় জুন মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১২২ জন। জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত তা বেড়ে ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬১ জন, উপজেলা পর্যায়ে ৭৪ জন এবং অন্যান্য জেলা থেকে আসা রোগী ২৯ জন।
তিনি বলেন, “ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এমএসএফসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন।”
সভায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন, বিআইটিআইডির পরিচালক ডা. ইফতেখার আহমদ, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের উপপরিচালক ডা. কমরুল আযাদ, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. একরাম হোসেন, বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মোত্তালিব, সিটি করপোরেশন, ইউনিসেফ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএসএফের ডেপুটি কান্ট্রি চিফ অব হেলথ ডা. রেজওয়ানুর রহমান এবং চট্টগ্রাম আরবান প্রকল্পের এপিডেমিওলজিস্ট প্রশান্ত নাথ ভৌমিক মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি, নজরদারি ব্যবস্থা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য সমাধান তুলে ধরেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। তারা আরও বলেন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং মশারি ব্যবহারের মাধ্যমে ডেঙ্গু সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।