কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে আ.লীগ প্রার্থী মাহাবুব নির্বাচিত

কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ২৮ হাজার ৮১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী (মাবু)। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসেদুল হক রাশেদ নারকেল গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৫৭৪ভোট। ফলে ৪ হাজার ২৪৪ ভোট ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন মো. মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী।

সোমবার (১২জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার পাবরিক লাইব্রেরি শহীদ সুভাষ কক্ষে এ ফলাফল ঘোষণা করেন কক্সবাজার জেলার নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন।

কোন প্রকার অভিযোগ, উত্তেজনা, অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সোমবার (১২ জুন) সকাল ৮ টা থেকে টানা ৪ টা পর্যন্ত চলে ভোট গ্রহণ।

ঘোষিত ফলাফলকে জনতার বিজয় বলে মন্তব্য করেছেন মো. মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সাধারণ ভোটাররা আন্তরিকভাবে নৌকা প্রতীক ও আমাকে ভালোবেসে নির্বাচিত করেছেন। আমি জনতা সহ সকল স্তরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ।

নারকেল গাছ প্রতীকের প্রার্থী মাসেদুল হক রাশেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই সঙ্গে ঘোষিত ফলাফলে সংরক্ষিত ৪ টি নারী কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন, ১,২, ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শাহেনা আকতার, ৪,৫,৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ইয়াসমিন আকতার, ৭,৮,৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জাহেদা আকতার ও ১০, ১১, ১২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নাছিমা আকতার বকুল। এরা ৪ জনই বর্তমান নারী কাউন্সিলর।

১২ টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, ১ নম্বর ওয়ার্ডের আকতার কামাল, ২ নম্বর ওয়ার্ডের মিজানুর রহমান, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আমিনুল ইসলাম মুকুল, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এহসান হক, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাব উদ্দিন সিকদার, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওমর সিদ্দিক লালু, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওসমান সরওয়ার টিপু, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাজবিহারী দাশ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হেলাল উদ্দিন কবির, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সালাউদ্দিন সেতু, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের নুর মোহাম্মদ মাঝু, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের এমএ মঞ্জুর। এর মধ্যে ৩ নম্বর, ৪ নম্বর, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিতরা ছাড়া নতুন।

সোমবার সকাল ৮ টায় থেকে শুরু হওয়া কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে প্রথম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ চলে ৪ টা পর্যন্ত। যে ভোটে কোন প্রার্থী, এজেন্স বা ভোটারদের অভিযোগ ছিল না। ভোটার গ্রহণের নিয়োজিত কর্মকর্তাদেরও ছিল না মাথা ব্যাথা। কোন প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালেট ছিনিয়ে সিল মারার আতংকও ছিল না।

সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪ পর্যন্ত পৌরসভার ১২ টি ওয়ার্ডের ৪৩ টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৭ টি কেন্দ্রে ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় কেন্দ্রে নারী ও পুরুষ ভোটার সারিবদ্ধ হয়ে একে একে কেন্দ্রে প্রবেশ করছেন আর ভোট প্রদান শেষে কেন্দ্রে ত্যাগ করে চলে যাচ্ছেন। যারা ভোট প্রদান করেছেন তাদের কেন্দ্রে থাকা পুলিশ-ম্যাজিষ্ট্রেটরা কেন্দ্রে থেকে ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন।