কক্সবাজারের টেকনাফে অপহৃত ৫ রোহিঙ্গার মধ্যে এক কিশোরকে বাম হাতের কব্জি কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেরত পাঠিয়েছে অপহরণকারীরা। বাকি ৪ জনের জন্য ‘মুক্তিপণ’ চাওয়া হয়েছে ২০ লাখ টাকা।
শনিবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালী ক্যাম্পের কাঁটাতারের পাশের পাহাড়ের পাদদেশ থেকে ওই কিশোরকে উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক পুলিশ সুপার জামাল পাশা।
আহত জাহাঙ্গীর আলম (১৬) আলীখালীর ২৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সামসু আলমের ছেলে। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওই ক্যাম্পের কমিউনিটি নেতা (মাঝি) নুরুল আমিন জানান, শুক্রবার রাতে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা আলীখালী ক্যাম্প থেকে জাহাঙ্গীর আলমসহ ৫ জনকে অপহরণ করে পাহাড়ের ভেতরে নিয়ে যায়।
অপহৃত অপর ৪ জন হলেন, নূর হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ ইউনুস (৩২), মোহাম্মদ রফিকের ছেলে মোহাম্মদ সুলতান (২৪), আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৬) ও মোহাম্মদ সৈয়দের ছেলে আনোয়ার ইসলাম (১৮)।
মাঝি নুরুল আমিন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পের কাঁটাতারের পাশের পাহাড়ের পাদদেশে একটি হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করে জাহাঙ্গীর আলমকে কাটা হাতসহ ফেলে রাখে অপহরণকারীরা।
খবর পেয়ে ক্যাম্পের লোকজন তাকে উদ্ধার করে এনজিও হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নুরুল আমিন আরও বলেন, অপহরণকারী চক্রটি অপহৃত অপর চার জনের পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবি করছে। না দিলে তাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘শনিবার রাতে টেকনাফ থেকে এক রোহিঙ্গা কিশোরকে হাসপাতালের আনা হয়েছে। তার হাতের কব্জি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় হয়েছে। সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’
টেকনাফ থানার ওসি মো. আবদুল হালিম জানান, ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকারী এপিবিএন সদস্য ও থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং অপহরণের শিকার রোহিঙ্গাদের উদ্ধারে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।