পুলিশের ওপর হামলার পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে বিহারী বগা

ওসির গাড়ি ভাঙচুর, ৬ পুলিশ সদস্য আহত; গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে পালানোর দাবি পুলিশের, মামলায় আসামি ২৭১

চট্টগ্রাম নগরীর ওয়্যারলেস কলোনিতে পুলিশের অভিযানে হামলার ঘটনায় মামলা হলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে ১৭ মামলার আসামি ওয়াকিল হোসেন ওরফে ‘বিহারী বগা’। পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্য আহতের ঘটনায় তাকে প্রধান আসামি করে ২১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে মামলা হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে—পুলিশের ওপর হামলার মতো গুরুতর ঘটনায় মামলা হওয়ার পরও আসামিরা কেন এখনো অধরা? বিশেষ করে যাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেই বিহারী বগার অবস্থানই বা কোথায়—এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা।

গ্রেপ্তার করতে গিয়ে উল্টো পুলিশের ওপর হামলা

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের এক প্রভাষককে অপহরণ ও মারধরের মামলায় আসামি বিহারী বগাকে গ্রেপ্তার করতে ওয়্যারলেস কলোনিতে অভিযান চালানো হয়।

পুলিশের অভিযোগ, অভিযানের খবর পেয়ে বগা খুলশী থানার ওসিকে ফোন করে হুমকি দেন। এরপর তার অনুসারীরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ও ককটেলসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে। এতে ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিমসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। ভাঙচুর করা হয় ওসির সরকারি গাড়িও। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশের দাবি, গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে পালান বগা

অভিযানের পর বগার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি গোপন সুড়ঙ্গপথ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অভিযান চালানোর খবর পেয়েই ওই সুড়ঙ্গপথ ব্যবহার করে বাসা থেকে পালিয়ে যান বগা। ফলে পুলিশের অভিযান শেষ হলেও গ্রেপ্তার করা যায়নি তাকে।

এ ঘটনায় পুলিশের সক্ষমতা ও অভিযান-পরবর্তী গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কারণ পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার পরও প্রধান আসামিসহ কারও গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

১৭ মামলার আসামি, অভিযোগের শেষ নেই

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকিল হোসেন ওরফে বিহারী বগার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৭টি মামলা রয়েছে। খুলশী, পাহাড়তলী ও আকবর শাহ এলাকায় পাহাড় কাটা, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার নাম জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবই অভিযোগ বা মামলার তথ্য—আদালতে প্রমাণিত হওয়ার বিষয় আলাদা।

কলেজ শিক্ষক নির্যাতনের মামলাতেও আসামি

সর্বশেষ পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে মারধর এবং কলেজের অধ্যক্ষকে ভিডিও কলে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় বগাকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে। ওই মামলার পরই তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালায় বলে জানা গেছে।

দল থেকেও বহিষ্কার

ওয়াকিল হোসেন বগা চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত ৮ জুন তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের তথ্যও পাওয়া গেছে।

বগার বক্তব্যও ভিন্ন

তবে পুলিশের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিহারী বগা। এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, পুলিশ তার কাছে টাকা চেয়েছিল এবং এ কারণেই তিনি ওসিকে গালাগাল করেন। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে রাজনৈতিকভাবে নির্যাতিত দাবি করে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন বলে বক্তব্য দেন।

এখন মূল প্রশ্ন—গ্রেপ্তার হবে কবে?

পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর এবং একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিষয়টি এখন চট্টগ্রাম নগরীতে আলোচনার কেন্দ্রে।

মামলা হয়েছে, আসামির সংখ্যা ২৭১; কিন্তু প্রধান আসামি এখনো অধরা—পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ কী, সেটিই এখন দেখার বিষয়।