ক্যামেরার আড়ালে রোনালদো কেমন, জানালেন সাবেক সতীর্থ

মাঠে নামলেই যেন বদলে যান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। জয়ের জন্য তার তীব্র ক্ষুধা, প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা ও সর্বোচ্চটা দেয়ার প্রবণতা ফুটবল বিশ্বে বহুদিন ধরেই পরিচিত। তবে মাঠের বাইরের রোনালদো নাকি সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন মানুষ।

পর্তুগিজ মহাতারকার সাবেক সতীর্থ আলভারো গঞ্জালেজ জানিয়েছেন, ড্রেসিংরুমে রোনালদো অত্যন্ত সাধারণ, সহজ-সরল ও সহযোগিতাপরায়ণ মানুষ। তবে মাঠে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই তার মধ্যে দেখা যায় অন্য রূপ–এক ‘প্রতিযোগিতার দানব’।

স্প্যানিশ রেডিও স্টেশন রেডিও মার্কাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদোর সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন সাবেক এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। সৌদি আরবে খেলার সময় রোনালদোর সতীর্থ ছিলেন তিনি।

রোনালদো সম্পর্কে গঞ্জালেজ বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমাদের দুজনেরই পরিচিত এমন আরও কয়েকজন সতীর্থের সঙ্গে কথা বলে আমি বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি,ড্রেসিংরুমে সে সত্যিকারের অসাধারণ একজন মানুষ।’

তবে ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে যাওয়ার পর রোনালদোর আচরণে বড় পরিবর্তন আসে বলে জানান তিনি।গঞ্জালেজের ভাষায়, ‘ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই সে পুরোপুরি বদলে যায়। প্রতিযোগিতার সময় সে সত্যিকারের এক দানব।’

মাঠের সর্বোচ্চ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রতিযোগিতাপ্রিয় রোনালদোর বিপরীতে দৈনন্দিন জীবনে তাকে একেবারেই সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে দেখেছেন গঞ্জালেজ।

তিনি বলেন, ‘ড্রেসিংরুমে সে খুবই সাধারণ এবং সহজে কাছে যাওয়া যায় এমন একজন মানুষ। সে অন্যদের সাহায্য করে।’

সৌদি আরবে নিজের শুরুর সময়টিতে রোনালদোর সহযোগিতার কথাও বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন তিনি।গঞ্জালেজ বলেন, ‘সেই বছর আমাদের কিছু পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছিল। সে আসার পর আমাদের অনেক সাহায্য করেছে। সবকিছুতেই সে পাশে ছিল।’

রোনালদোর সঙ্গে অনুশীলনের অভিজ্ঞতা নিয়েও মজার স্মৃতি রয়েছে গঞ্জালেজের। অনুশীলনে পর্তুগিজ তারকাকে উত্যক্ত করতেন কিনা–এমন প্রশ্নে হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, ‘সব সময়!’

তবে মাঠের উত্তেজনা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতো না। গঞ্জালেজ জানান, অনুশীলনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ থাকত স্বাভাবিক ও আনন্দময়।

তার ভাষায়, ‘কিছু রাগী দৃষ্টি বিনিময় হতো। পরে আমরা জ্যাকুজিতে যেতাম, হাসি-ঠাট্টা করতাম, আর সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যেত।’

গঞ্জালেজের মতে, অনুশীলনেও সতীর্থদের কাছ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মানসিকতা দেখতে চান রোনালদো। ইউরোপের বাইরে ভিন্ন পরিবেশে খেলতে এসেও নিজের সেই উচ্চমান ধরে রাখতে চান পর্তুগিজ মহাতারকা। এ বিষয়ে গঞ্জালেজ বলেন, ‘সে চায়, আমরা অনুশীলনেও প্রতিযোগিতামূলক থাকি।’

রোনালদোর সামনে থাকা ব্যক্তিগত লক্ষ্যগুলোর কথাও উঠে এসেছে তার বক্তব্যে। ক্যারিয়ারে এক হাজার গোলের মাইলফলকে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।

সৌদি আরবে কাটানো সময়ের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হিসেবে রোনালদোর কাছ থেকে তাকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন গঞ্জালেজ। একই সঙ্গে ফুটবলের দুই মহাতারকা রোনালদো ও লিওনেল মেসির সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

গঞ্জালেজ বলেন, ‘তাদের দুজনকে কাছ থেকে দেখা বিশেষ এক অভিজ্ঞতা। রোনালদো ও মেসি; দুজনই এমন মানুষ, যারা ফুটবল তথা ক্রীড়াজগতের ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’