চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট কাটেনি, সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি

চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এতে সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজটের পাশাপাশি বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গ্যাসের অভাবে শনিবারও নগরীর বেশিরভাগ শিল্পকারখানা চালু করা সম্ভব হয়নি।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে মাত্র ১৭০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে। দৈনিক চাহিদার তুলনায় যা প্রায় ৫৫ শতাংশ।

নগরীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে দুই কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় কোথাও কোথাও স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সিরিয়াল নিয়ে চালক ও শ্রমিকদের মধ্যে হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।

হালিশহর, আকবরশাহ, খুলশী, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জামালখান, দেওয়ানহাট ও চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাস মিলছে না।

গ্যাসসংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদনও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশেষ করে পোশাক ও স্টিল কারখানায় উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশে নেমেছে। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার বাতিলের ঘটনাও ঘটছে।

কেজিডিসিএল জানিয়েছে, চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দের তুলনায়ও কম গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের হাতে থাকা সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হলেও এর সমাধান হবে ধীরগতিতে। জ্বালানি সংকট এখন পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।