বাবার মৃত্যুর পর মাঠে ফিরে নিজের চেনা ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। এবার গোল ও অ্যাসিস্ট; দুটিই করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তবে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও জয় পায়নি ইন্টার মায়ামি। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে মায়ামি।
এমএলএসের ম্যাচটির শুরু থেকেই প্রভাব বিস্তার করেন মেসি। ২১ মিনিটে তার নিখুঁত ক্রস থেকে লুইস সুয়ারেজ হেড করে বল বাড়িয়ে দেন ড্যানিয়েল পিন্টারের দিকে। সেখান থেকে গোল করে মায়ামিকে এগিয়ে দেন পিন্টার।
মাত্র পাঁচ মিনিট পরই গোলের খাতায় নাম লেখান মেসি। বক্সের ভেতর ১২ গজ দূর থেকে নিজের পছন্দের বাঁ পায়ে বল নিয়ে ভেতরে কাট করেন তিনি। এরপর বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা। বাবার মৃত্যুর পর মাঠে ফেরার পর এটাই মেসির প্রথম গোল।
চলতি এমএলএস মৌসুমে ১৭ ম্যাচে মেসির গোলসংখ্যা এখন ১৩, সঙ্গে আছে ৯টি অ্যাসিস্ট। ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ছয় ম্যাচে তার গোল হলো ছয়টি, অ্যাসিস্ট চারটি।
তবে মেসির গোলের পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি মায়ামি। প্রথমার্ধেই ইন্ডিয়ানা ভাসিলেভের ভলিতে সমতায় ফেরে ফিলাডেলফিয়া। ওই গোলে অ্যাসিস্ট করেন মাত্র ১৬ বছর বয়সী মিডফিল্ডার কাভান সুলিভান।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮ মিনিটে ১৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার নিল পিয়েরে হেডে গোল করে ইউনিয়নকে এগিয়ে দেন। চলতি মৌসুমে পাঁচ ম্যাচে এটি তার তৃতীয় গোল।
এরপর ৬২ মিনিটে ফিলাডেলফিয়ার মিলান ইলোস্কি গোল করে দলকে আরও এগিয়ে নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ভিডিও রিভিউয়ের পর গোলটি বাতিল হয়। বিল্ডআপের সময় অফসাইডে ছিলেন পিয়েরে। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-২ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। যোগ করা সময়ে উত্তেজনার মধ্যে অফ দ্য বল সংঘর্ষে জড়িয়ে লাল কার্ড দেখেন মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট ও ফিলাডেলফিয়ার কাভান সুলিভান।
ম্যাচের আগে বেশ চাপে ছিল মায়ামি। ন্যাশভিলের কাছে ৪-১ গোলে হারের পর টানা তিন ম্যাচে জয়হীন ছিল তারা। এমএলএসে সেই হার থামিয়ে দিয়েছিল ৯ মে থেকে চলা সাত ম্যাচের অপরাজিত যাত্রা, যার মধ্যে ছয়টি জয় ও একটি ড্র ছিল।
এদিকে বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর কারণে ৮ আগস্ট মন্টেইরের বিপক্ষে ম্যাচে খেলেননি মেসি। এরপর ১২ আগস্ট লিওনের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে ৪৫ মিনিট খেলেছিলেন। এবার ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থেকে গোল ও অ্যাসিস্ট করে নিজের ফেরার বার্তাটা আরও জোরালো করলেন তিনি।