এফএর ৭৪টি নিয়ম ভঙ্গের দায় স্বীকার, ১ কোটি পাউন্ড জরিমানা চেলসির

ইংলিশ ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)-এর ৭৪টি নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ১ কোটি পাউন্ড (প্রায় ১৩.৪১ মিলিয়ন ডলার) জরিমানা গুনতে হচ্ছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসিকে। তবে আপিলে স্বস্তি পেয়েছে লন্ডনের ক্লাবটি। স্থগিত ছয় পয়েন্ট কাটা ও তাৎক্ষণিক ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পেলেও ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে দুই ট্রান্সফার উইন্ডোর নিবন্ধন নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকবে তারা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) এক বিবৃতিতে এফএ জানায়, ২০২২ সালে মার্কিন ব্যবসায়ী টড বোহলি ও ক্লিয়ারলেক ক্যাপিটাল ক্লাবটির মালিকানা নেয়ার পর চেলসি অতীতের সম্ভাব্য বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বপ্রণোদিত হয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে জানায়। পরবর্তী তদন্তে ক্লাবটি এফএর ৭৪টি আইন লঙ্ঘনের দায় স্বীকার করে।
তদন্ত শেষে একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কমিশন প্রথমে চেলসিকে স্থগিত ছয় পয়েন্ট কাটা এবং ১ কোটি পাউন্ড (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১৬৬ কোটি টাকা) জরিমানা করে। তবে পয়েন্ট কাটার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে স্বাধীন আপিল বোর্ড সেই শাস্তি বাতিল করে দেয়। ফলে চেলসিকে পয়েন্ট হারাতে হচ্ছে না।
এফএর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব নিয়ম লঙ্ঘনের মধ্যে ছিল তৃতীয় পক্ষের বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিধি এবং ইন্টারমিডিয়ারি (মধ্যস্থতাকারী) ব্যবহারের নিয়ম ভঙ্গসহ আরও কয়েকটি আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম। তবে জরিমানার অর্থ নিয়ে আপিলের সুযোগ ছিল না। এফএ জানিয়েছে, ১ কোটি পাউন্ডের পুরো অর্থই ইংল্যান্ডের তৃণমূল ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
এদিকে এক বিবৃতিতে চেলসি জানায়, ২০২২ সালে ক্লাবটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়গুলো নিজ উদ্যোগে সব সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানায় এবং তদন্ত চলাকালে হাজার হাজার নথি স্বেচ্ছায় সরবরাহ করে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে।
এটি চেলসির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ের একমাত্র আর্থিক শাস্তি নয়। চলতি বছরের মার্চে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্লাবটিকে রেকর্ড ১ কোটি ৭৫ লাখ পাউন্ড জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি প্রথম দলের জন্য এক বছরের ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা (দুই বছরের জন্য স্থগিত) এবং একাডেমির খেলোয়াড় নিবন্ধনে তাৎক্ষণিক নয় মাসের নিষেধাজ্ঞাও দেয়া হয়েছিল।
চেলসি মনে করছে, নতুন মালিকানার অধীনে অতীতের অনিয়ম স্বেচ্ছায় প্রকাশ ও তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করায় তারা আরও কঠোর শাস্তি, বিশেষ করে পয়েন্ট কর্তনের মতো শাস্তি এড়াতে সক্ষম হয়েছে।