ইষ্ট বেকার প্রত্যাহারের নির্দেশ, মোড়ক বদলে চলছে প্রকাশ্যে বিক্রি!

বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ, উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ। কিন্তু বাস্তবে নিষিদ্ধ সেই খাদ্যপণ্যই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন দোকানে। অভিযোগ উঠেছে, একই পণ্য নাম ও মোড়ক বদলে আবারও বাজারজাত করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাসায়নিক যুক্ত এসব খাবার দীর্ঘদিন খেলে ক্যান্সার, কিডনি বিকলসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অতিমাত্রায় প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের কারণে ‘ইস্ট বেকার ব্রেড’-সহ তিনটি খাদ্যপণ্যকে বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। তবে রাজধানীর বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, এখনো মিলছে এই নিষিদ্ধ খাবারটি। ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডের ‘ইস্ট কেক’, জিবাই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ‘ইস্ট বেকার’ ও আরবোটিং ফুড লিমিটেডের ‘আরবোটিং ফুড ব্রেড’ বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হলেও, অনেক দোকানদারই এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কিছুই জানেন না।
দোকানি ও বিক্রেতারা বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে আমাদের এখানে পণ্য আসে। যদি কোনো সমস্যা থাকত, তবে তো কোম্পানি আর এগুলো নিয়ে আসত না। যেহেতু পণ্য আসতেছে, বিধায় আমরাও নিচ্ছি এবং বিক্রি করছি। একটা রুটি কখনো এক মাস মেয়াদ থাকতে পারে না, নিশ্চয়ই কোনো একটা মেডিসিন দেওয়া হয়। আর এ জন্যই এটা এতদিন ভালো থাকে।’
এদিকে ক্রেতারা জানান, মুখরোচক হওয়ায় শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও নিয়মিত খান এই রুটি। এক ক্রেতা বলেন, ‘আমি একদিন খেয়েছিলাম, অনেক টেস্ট। কিন্তু পরে নিউজ দেখার পর আমি এগুলো আর খাই না। কারণ এটা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এরপর থেকে এখন আর এই জিনিসটা আমরা কিনতেছি না এবং বাচ্চাদেরকেও খাওয়াচ্ছি না।’
বিএফএসএ-এর নিষেধাজ্ঞার কারণে এবার নতুন ফন্দি এঁটেছেন ইস্ট রুটির সরবরাহকারীরা। রাতারাতি নতুন মোড়ক তৈরি করে, তাতে ‘ইস্ট’ নাম বাদ দিয়ে সাধারণ রুটি হিসেবে সরবরাহ করছে তারা। এতে ‘ওয়াংতা’ নামের যে কোম্পানির তথ্য দেওয়া আছে, সেটি মূলত নিষেধাজ্ঞায় থাকা জিবাই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ‘ইস্ট বেকার’-এরই ঠিকানা।
ক্রেতা ও বিক্রেতারা আরও জানান, ‘সাধারণ মানুষ, রিকশাওয়ালা কিংবা ভ্যানগাড়িওয়ালারা তো আর জানে না যে এটার ভেতরে কী আছে না আছে। তারা মোড়কের সৌন্দর্য দেখছে, মজা পাচ্ছে আর খাচ্ছে। ভেতরে কী পরিমাণ কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় আর এটা স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর, তা আমরা সাধারণ পাবলিক অনেকেই জানি না।’
পুষ্টিবিদরা বলছেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক ও নিম্নমানের সংরক্ষণকারী যুক্ত খাবার খেলে ক্যান্সার, কিডনি বিকলসহ জটিল সব রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘খাবারগুলোকে মুখরোচক করার জন্য অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডাই (ক্ষতিকর রং) ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদের শরীরে প্রবেশ করা টক্সিনগুলো লিভারের মাধ্যমে ডিটক্সিফাইড বা পরিশোধিত হয়। কিন্তু যখন অতিরিক্ত রাসায়নিকের কারণে লিভার এগুলোকে আর ডিটক্সিফাইড করতে পারে না, তখন ক্ষতিকর উপাদানগুলো লিভারে জমে যায়। এর ফলে লিভারের সক্ষমতা কমে যায় এবং একপর্যায়ে তা ক্যান্সারিয়াস সাবস্ট্যান্সে (ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান) রূপান্তরিত হয়।’
উল্লেখ্য, খাদ্যে ভেজালের কারণে যাবজ্জীবন সাজার মতো কঠিন আইনি বিধান থাকলেও, সামান্য জরিমানা ছাড়া আইনগুলোর তেমন একটা কঠোর প্রয়োগ বাস্তবে দেখা যায় না।