জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮০০ নালা পরিষ্কার করা হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করতে নগরীর প্রায় ৮০০টি নালা পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমিয়ে পানি দ্রুত নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে নালা থেকে জমে থাকা পলি, মাটি, প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমও জোরদার করা হবে।

এ বিষয়ে বুধবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে পরিচ্ছন্ন বিভাগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে ৮০০টি নালা পরিষ্কারের কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে নগরীর যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, সেসব স্থানে জলাবদ্ধতার প্রকৃত কারণ দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোথাও নালা ভরাট, কোথাও বর্জ্য জমে পানি চলাচলে বাধা কিংবা অন্য কোনো কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে থাকলে তা চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

মেয়র বলেন, সাম্প্রতিক রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতে নগরীর খাল-নালায় বিপুল পরিমাণ বর্জ্য জমা হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা মাটি বিভিন্ন স্থানে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসব কারণে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত ও ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ওয়ার্ড পর্যায়ে যেসব সুপারভাইজার দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বদলি করা হবে। একইভাবে দায়িত্বে অবহেলা করলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পরিবর্তে নতুন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বর্জ্য পরিবহনের সময় সংশ্লিষ্ট ট্রাক বা টমটম অবশ্যই প্লাস্টিকের কভার দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, যাতে রাস্তা বা নালায় বর্জ্য ছড়িয়ে না পড়ে। এছাড়া যেসব এলাকায় ডাস্টবিনের অভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে, সেখানে দ্রুত ডাস্টবিন স্থাপন ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক বর্জ্য বিন সরবরাহের নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমের গতি বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান মেয়র।

এ সময় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টমটম গাড়ি সরবরাহ, শ্রমিক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জনবহুল এলাকায় ডাস্টবিন স্থাপনের প্রস্তাব দেন। মেয়র সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এসব বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে উৎপাদিত বর্জ্যের একটি অংশ খাল-নালায় চলে যাওয়ার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। যত্রতত্র ময়লা ফেলা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মীরা যখন বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করতে যাবেন, তখন নিয়মিত তাদের কাছে ময়লা হস্তান্তর করুন। এতে রাস্তা ও ড্রেন পরিষ্কার থাকবে, মশার উপদ্রব কমবে এবং নগর পরিবেশও সুস্থ থাকবে।

সভায় বক্তব্য রাখেন নির্বাহী প্রকৌশলী রুবেল চন্দ্র দাশ, নাসির উদ্দিন রিফাত, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মাসহ চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।