তেহরানের আকাশসীমা বন্ধ করে দিলো ইরান

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আইএসএনএ।
আগের দিন রোববার সারা দেশে স্বাভাবিকভাবে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত ছিল। তবে সোমবার রাজধানী তেহরানে মূল জানাজা ও শেষযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় শহরের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, সোমবার রাজধানীতে জনসাধারণের অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিকতা চলাকালে তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল স্থগিত থাকবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করবে। তবে ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধই থাকবে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের আকাশসীমা এবং শহীদ হাশেমিনেজাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ধরনের কার্যক্রমও চূড়ান্ত দাফন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হবে।
৭ ও ৮ জুলাই দেশের বাকি অংশে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। তবে শেষ দিনের আনুষ্ঠানিকতার সময় মাশহাদে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এর জেরে কয়েক সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধ শুরু হয় এবং পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে।
এর আগে শুক্রবার খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এসময় ওই অঞ্চলসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও সরকারি প্রতিনিধিদল প্রয়াত ইরানি সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সরকারি সূচি অনুযায়ী, জনসাধারণের বিদায় অনুষ্ঠানের পর সোমবার তেহরানে মূল জানাজার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জানাজার আনুষ্ঠানিকতা কুম শহরে অনুষ্ঠিত হবে।
পরদিন বুধবার (৮ জুলাই) ইরাকের বাগদাদ, নাজাফ ও কারবালায় জানাজার আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতারা মরদেহ গ্রহণ করবেন, এরপর সেটি প্রধান শিয়া পবিত্র স্থাপনাগুলোতে নেয়া হবে।
চূড়ান্ত জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইমাম রেজা মাজারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা ইরানের অন্যতম প্রধান শিয়া পবিত্র স্থান।