দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৫০টি আসনে সহজ জয় পেতে পারে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। কমিশনের যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়ন বাতিল হওয়াসহ নানা কারণে এসব আসনে নৌকার প্রার্থীর সামনে আছেন দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী। এসব আসনে তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে না। ঢাকা-১২ আসনে প্রার্থী এবার ছয় জন। তারা প্রতিনিধিত্ব করছেন ছয়টি দলের। রাজধানীর এই আসনে নৌকার প্রার্থী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। প্রধান প্রতিপক্ষ জাতীয় পার্টি। গেলো নির্বাচনে এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ভোট পান ৭৯৫টি। আর আসাদুজ্জামান খান কামাল পান ১ লাখ ৯১ হাজার ৮৯৫টি। এবার এই আসনে আছেন জাতীয় পার্টির নতুন মুখ। তবে তিনিও যে খুব পরিচিত, তেমন নয়। ঢাকা-৯ আসনে নৌকার প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরী। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনএফ ও এনপিপি ও জাতীয় পার্টি ও তৃণমূল বিএনপিসহ ৯টি দলের নয়জন প্রার্থী। গেলোবার নৌকা প্রার্থী ভোট পান ২ লাখ ২৪ হাজার ২৩০টি। বিএনএফ পায় ১৪৪ আর এনপিপি পায় ১৪৬টি ভোট। ভোটের এই চিত্র এবার বদলে দেয়ার মতো প্রার্থী দিতে পারেনি প্রতিপক্ষ কোন দলই। অতীতের ভোটের ইতিহাস বলছে ঢাকার ৪, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১২, ১৫, ১৬ ও ১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তেমন কোন ভোট ছিলো না। এবারও বেশির গ ভোটারই জানে না আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি ছাড়া আর কোন প্রার্থীরা এখানে নির্বাচন করছেন। তারা বলছেন, নৌকা ছাড়া অন্যান্য প্রতীকে নির্বাচনে সামিল হওয়া প্রার্থীদের নামই তারা কখনো শুনেননি। অন্যদিকে, রাজধানীর বাইরে পঞ্চগড়-২, নীলফামারী-৪, নওগাঁ, রংপুর, সিলেট-১, বরিশাল, রাজশাহী, ঝালকাঠি, জামালপুর, শেরপুর, চাঁদপুর ও কুমিল্লার একাধিক আসনেও প্রায় একই চিত্র। যেখানে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীর বিপরীতে জমজমাট লড়াই করার মতো কোন প্রার্থী নেই। তাই আসনগুলোতে অনেকটা সহজ জয়ের অপেক্ষায় নৌকার প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় দেখা গেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীতরা রয়েছেন ২৬৩ আসনে। পরে তিনটি আসনে এই দলের তিনজন আদালতের রায়ে প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন। এখন তারা ২৬৬ আসনে লড়াইয়ে আছেন। সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছেন ২৬৫ আসনে। যদিও আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন বণ্টনের সমঝোতায় তারা মূলত লড়ছেন ২৬টি আসনে। এবারে নির্বাচনের নতুনত্ব হচ্ছে দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী। শতাধিক আসনে এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজ দলের নৌকার প্রার্থীদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন। আওয়ামী লীগের বর্তমান ২৮ জন সংসদ সদস্য দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন। জেলা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়র পদ ছেড়ে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন ৩৫ জন। তাদের বাইরে সাবেক সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী আরও অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।