টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পদত্যাগের গেজেট কবে, জানেন না মন্ত্রিপরিষদ সচিব

সোমবার (২৭ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংকারে এ কথা জানান তিনি। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিকেলে সচিবালয়ে ব্রিফি করেন মাহবুব হোসেন। গত ১৯ নভেম্বর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম পদত্যাগপত্র জমা দেন। তারা তিনজনই টেকনোক্র্যাট (সংসদ সদস্য নন) কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পান।
তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের গেজেট কবে হবে- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, না। এ রকম কোনো নির্দেশনা আমি এখনও পাইনি। ওই মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিমন্ত্রী নেই- এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আগে যা বলেছি তারপরে আর কোনো নতুন নির্দেশনা আমার কাছে আসেনি। ওই দিন তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তিন উপদেষ্টাও পদত্যাগপত্র জমা দেন। উপদেষ্টাদের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ বিষয়ে আর তথ্য নেই। তাদের পদত্যাগের পর দিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে দুজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপদেষ্টা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রজ্ঞাপন জারি হলে তাদের পদত্যাগ কার্যকর হবে। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৪৮ জন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ২৫ জন মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী এবং ৩ উপমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের পদত্যাগের ফলে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা এখন ৪৫। বিগত ২০১৯ সালে ৬ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার সদস্যদের তালিকায় সংসদ সদস্য নন বা নির্বাচিত ছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় ছিলেন দুই মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রীও। পরে এর সংখ্যা বাড়ানোও হয়। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে ২৯৮ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে জয় পায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। জোটগতভাবে তারা পায় ২৮৮ আসন। অন্যদিকে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তাদের জোট পায় মাত্র সাতটি আসন। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় একজন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্ধারণ করবেন, সেভাবে অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন।