এক ঘণ্টায় শেষ ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনের দুই দিনের টিকেট

আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বাণিজ্যিকভাবে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল শুরু হচ্ছে। ওইদিন ৭৮০ জন যাত্রী নিয়ে শুরু হবে ট্রেন চলাচল। এ রুটের ট্রেনের অগ্রীম টিকেট বিক্রি শুরু হয় বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল ৮টার পর থেকে। কাউন্টারের পাশাপাশি অনলাইনে এ টিকেট বিক্রি শুরু হয়। টিকেট বিক্রি শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় দিনের সব টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে। অর্থাৎ এক ঘণ্টায় ১,৫৬০টি টিকেট বিক্রি করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের ব্যবস্থাপক রতন কুমার চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে কাউন্টার ও অনলাইনে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনের টিকেট বিক্রি শুরু হয়। প্রথম দিন ১ ডিসেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের টিকেট বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে ১ ও ২ ডিসেম্বরের টিকেট মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শেষ হয়ে যায়। কাউন্টারের চেয়ে অনলাইনে বিক্রি বেশি হয়েছে।” গত ১১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত মঙ্গলবার থেকে এ রুটে ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রির কথা ছিল তবে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজ চলমান থাকায় তা হয়নি। রেলের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) তারেক মোহাম্মদ ইমরান বলেন, “প্রথম পর্যায়ে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে দুই ধরনের আসন থাকবে। এসি এবং নন-এসি। এর মধ্যে কক্সবাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত যেতে এসি আসনের ভাড়া পড়বে ভ্যাটসহ ১,৩২৫ টাকা এবং নন-এসি আসনের ভাড়া পড়বে ৬৯৫ টাকা।” পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন থেকে ছাড়বে ট্রেনটি। চট্টগ্রামে পৌঁছাবে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে। ২০ মিনিট যাত্রাবিরতি দিয়ে ছাড়বে বিকেল ৪টায়। রাত ৯টা ১০ মিনিটে পৌঁছাবে ঢাকায়। একইভাবে ঢাকা থেকে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে রাত ৩টা ৪০ মিনিটে। সেখানে ২০ মিনিট যাত্রাবিরতি দিয়ে রাত ৪টায় রওনা দিয়ে কক্সবাজারে পৌঁছাবে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে। তবে ঢাকা থেকে সোমবার এবং কক্সবাজার থেকে মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে ট্রেনটির। এই দুই দিন একমুখী গন্তব্যে চলাচল করতে পারবেন যাত্রীরা। প্রথম ধাপে একটি ট্রেন আসা-যাওয়া করলেও আগামী বছরের শুরুতে এই বহরে সাতটি ট্রেন যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আপাতত ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচল করবে কক্সবাজার এক্সপ্রেস। এই রুটে আন্তঃনগর ও কমিউটার মিলে আরও সাতটি ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে দুটি, ঢাকা থেকে আরও একটি, রাজশাহী থেকে একটি, সিলেট থেকে একটি, চাঁদপুর থেকে একটি এবং চট্টগ্রাম থেকে একাধিক কমিউটার ট্রেন চালুর কথা ভাবছি আমরা। আগামী বছরের শুরুতে চালুর পরিকল্পনা আছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জনবল নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত বেশি ট্রেন চালানো যাবে না।” ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকায় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেললাইন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার এবং রামু থেকে কক্সবাজার ১২ কিলোমিটার। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের প্রায় সাত বছর পর ২০১৮ সালে ডুয়েল গেজ ও সিঙ্গেল ট্র্যাক রেললাইন প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথমে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ১,৮৫২ কোটি টাকা। পরে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করায় ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৮,০৩৪ কোটি টাকায়। এতে অর্থায়ন করেছে এশিয়ান ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকার। এটি সরকারের অগ্রাধিকার (ফাস্ট ট্র্যাক) প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।