সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে প্রত্যেক আসনেই ইসির ‘অনুসন্ধান কমিটি’

নির্বাচনী অপরাধ, আচরণবিধি ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে অনিয়মের অনুসন্ধানে ৩০০টি “অনুসন্ধান কমিটি” গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। গত একাদশ সংসদ নির্বাচনে তফসিলের পর নির্বাচনপূর্ব অনিয়ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ১২২টি “নির্বাচনী তদন্ত কমিটি” গঠন করা হয়েছিল। এবার প্রতিটি সংসদীয় আসনে এটি গঠন করা হলো। আইন ও বিচার বিভাগের সচিবকে এই কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান। তিনি বলেন, “আশা করি, বিচারিক কাজের ব্যবস্থাপনায় এ পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।” আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। নির্বাচনী অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছর দণ্ডের বিধান রয়েছে। তফসিল ঘোষণা থেকে ফল গেজেট আকারে প্রকাশ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী, তার সমর্থক বা অন্য কেউ আইন ও বিধি লঙ্ঘন করলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তাদের সংক্ষিপ্ত বিচার করে থাকেন নির্বাহী হাকিম, যা “লেভেল প্লেইং ফিল্ড” তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ইসির এবারের অনুসন্ধান কমিটিতে একজন যুগ্ম জেলা জজ বা প্রয়োজনবোধে সিনিয়র সহকারী জজ থাকবেন। অনিয়ম অনুসন্ধান করে তিন দিনের মধ্যে জানাতে হবে ইসিকে। তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের সময় পর্যন্ত এই কমিটি কাজ করবে। কমিটিতে ভোটের আগে-পরে অন্তত চার দিনের জন্য আরও কয়েকশ বিচারকি হাকিম নিয়োগ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে ইসি। নির্বাহী হাকিমও থাকবেন সহস্রাধিক। গত ১৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। ইসির তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি। ওই দিন সকাল ৮টা থেকে টানা ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। সেদিন থেকেই প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা। প্রচারণার জন্য ২২ দিন সময় পাবেন প্রার্থীরা। নির্বাচনে ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৫৯২ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ২ নভেম্বর সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটারসংখ্যা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন ভোটার। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন এবং নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন। আর হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৮৫২ জন। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ১০৩টি এবং ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৯১২।