হক গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদম তমিজী হক র্যাবের নজরদারিতে রয়েছেন। যেকোনো সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। শুক্রবার বিকেল ৫টায় তার গুলশান ২ এর ১১১ নম্বর রোডের ৮ নম্বর বাড়ির সামনে র্যাব সদস্যদের দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্যের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা হয়েছে। মামলা নং ২৭। বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আনিছুর রহমান নাঈম বাদি হয়ে মামলাটি করেন। নাঈম ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক। শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাসাটির প্রধান ফটকের দুই পাশে র্যাবের গাড়ি। র্যাব সদস্যরা দাঁড়িয়ে আছেন। বাসাটির তৃতীয় তলায় দাড়িঁয়ে র্যাব সদস্যদের উদ্দেশ্যে কিছু একটা বলছেন তমিজী হক। তার পরনে সাদা লুঙ্গি ও গেঞ্জি। বাসাটির সামনে দায়িত্বরত নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক এক র্যাব সদস্য বলেন, তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তমিজী হকের হাতে পিস্তল ও ছুরি রয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে- আদম তমিজী হক ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর, মানহানিকর, উস্কানীমূলক বক্তব্য প্রচার এবং প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকিও দিয়েছেন। তার এহেন বক্ত্যবে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। উক্ত পলাতক আসামী তার অজ্ঞাতনামা পলাতক সহযোগীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অখন্ডতা, সংহতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আসামীরা একটি সংঘবদ্ধ সরকার বিরোধী ফেসবুক এ্যাক্টিভিষ্ট। তাদের এরুপ কার্যকলাপ বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগনের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। তাদের এহেন নেতিবাচক কার্যকলাপে বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। তারা বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার জন্য সুগভীর পরিকল্পনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এহেন আপত্তিকর ভিডিও-বক্তব্য প্রচার করে জনমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। যাতে শান্তি প্রিয় জনগন সংক্ষুব্ধ হয়। বাংলাদেশের আইন শৃংখলার অবনতি ঘটিয়ে নিজস্ব স্বার্থ হাসিলে লিপ্ত । ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আনিছুর রহমান নাঈম বলেন, আদম তমিজী হক আত্মহত্যা করবে ও মানুষ হত্যা করবে এসব বলে নিজেকে বাঁচানের জন্য চেষ্টা করছে। তার একটা কঠোর শাস্তি পাওনা। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে এভাবে কথা বলায় আমরা জাতি হিসেবে ছোট হয়েছি। তার এ ধরনের আচারণ জাতির জন্য অবমাননাকর। বাংলাদেশে এসে তিনি সরকার পতন ও বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে জড়িত হয়েছে। যারা তাকে সাহস দিয়ে বিদেশ থেকে এনেছে যে বিমানবন্দরে লোক থাকবে। তার দ্বারা অনেক কিছু হবে। তমিজীর অপকর্মের কারণে তার পেছনে থাকা অপশক্তি তার সঙ্গে এখন যোগাযোগের সাহস পাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, রাজনীতিটাকে তমিজী ব্যবহার করেছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতিটাকে কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। যারাই ব্যবহারের চেষ্টা করেছে তারা যুগে যুগে ধ্বংস হয়েছে। র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোস্তাক আহমেদ বলেন, ফেসবুকে আদম তমিজী প্রধান মন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানি বক্তব্য দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তিনি ফেসবুক লাইফে এসে আত্মহত্যা করবেন এবং তার স্ত্রীকে হত্যা করবেন বলে হুমকি দেন। তার হাতে ছুরিও ছিলো। এরপর র্যাব রাতে অভিযান অসমাপ্ত রেখে সেখান থেকে চলে আসে। তিনি আরও বলেন, আদম তমিজী কড়া নজরদারিতে রয়েছে। তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।