উপাচার্যের মৃত্যুতে জবিতে তিন দিন বন্ধ থাকবে ক্লাস-পরীক্ষা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হকের মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।
শনিবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স ফ্যাকাল্টিতে উপাচার্যের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উপাচার্যকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
শোক ঘোষণার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, “উপাচার্যের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা শনি, রবি ও সোমবার (১১ থেকে ১৩ নভেম্বর) তিন দিন শোক পালন করবো। এ সময় সকল ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ থাকবে ও পতাকা অর্ধনির্মিত রাখা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। তার মতো গুণী ও অ্যাকাডেমিশিয়ান ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতির কারণ।
উপাচার্যের প্রথম জানাজায় ইউজিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আইনুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক মোস্তফা কামাল, রেজিস্ট্রার ওহিদুজ্জামান, শিক্ষক নেতারা, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক শনিবার ভোরে রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
গত সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে অধ্যাপক ইমদাদুল হকের ক্যান্সার ধরা পড়ে। উন্নত চিকিৎসা নিতে গত ১২ সেপ্টেম্বর তিনি সিঙ্গাপুরে যান। সেখানে তার রেডিও থেরাপি সম্পন্ন হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তিনি গত ১২ অক্টোবর দেশে ফিরে আসেন। ফের অবস্থার অবনতি হলে তাকে বিআরবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অধ্যাপক ইমদাদুল হক একজন উদ্ভিদবিজ্ঞানী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম উপাচার্য। ২০২১ সালের ১ জুন চার বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য পদে নিয়োগ পান। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন পদে দায়িত্বরত ছিলেন।
অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হকের জন্ম পাবনায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৭৮ সালে এমএসসি এবং ১৯৮৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি একাধিক পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেছেন।
তিনি বিভিন্ন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি ও সদস্য, বাংলাদেশ উদ্ভিদবিজ্ঞান সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর প্ল্যান্ট টিস্যু কালচার অ্যান্ড বায়োটেকনোলজির সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি একাধিক পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও ভূমিকা রেখেছেন। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন জার্নালে তার ৮০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তিনি একাধিক বইয়ের সহ-সম্পাদক।