রোববার (২৯ অক্টোবর) ডিবি পুলিশ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তার নিজ বাসা থেকে আটক করে ।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার(ডিসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, গতকালকের পুলিশ হত্যা, আগুন, রাজারবাগ হাসপাতালে অগ্নিসংযোগসহ অন্তত ডজনখানেক মামলা হবে। এসব ঘটনায় যে কোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
সকাল ৯ টা ৫০ মিনিটে মির্জা ফখরুলকে রাজধানীর মিন্টু রোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। এ বিষয়ে ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে।
এর আগে দলের চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি বলেন, সকাল ৯টার আগে থেকে মহাসচিবের গুলশানের বাসার সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেয়। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ।
মির্জা ফখরুল গ্রেফ্তারের পর স্ত্রী রাহাত আরা বেগম জানান, সকালে ডিবি পুলিশের লোকজন বাসায় আসে, মির্জা ফখরুল ইসলামসহ বাসার সবার সঙ্গে কথা বলে। এরপর সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ হার্ড ডিস্ক নিয়ে ভবনের নিচে চলে যায়। ঠিক দশ মিনিট পর আবার ফিরে এসে মির্জা ফখরুলকে আটক করে নিয়ে যায় তারা।
তিনি আরও বলেন, মির্জা ফখরুল প্রচণ্ড অসুস্থ, তার চিকিৎসা চলছিল। এভাবে নিয়ে যাবে মেনে নিতে পারছি না, ৭৫ বছর বয়স্ক মানুষ। আশা করবো যদি জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়, তা করে যেন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশ বাঁশের মাধ্যমে ব্যারিকেড দিয়ে কার্যালয়ের সামনের অংশকে ক্রাইম সিন ঘোষণা করা হয়েছে। কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।
শনিবার (২৮ অক্টোবর ) বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল সমাবেশ করেছে। এসময় পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়ে বিএনপির নয়াপল্টনের মহাসমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। ধাওয়া খেয়ে নেতাকর্মীরা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। নয়াপল্টন ও পুরানা পল্টন মোড় এবং আশপাশের অন্যান্য স্থানে বিএনপি-পুলিশ-আওয়ামী লীগ ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এসময় বিএনপির বহু নেতাকর্মীর পাশাপাশি পুলিশ ও সাংবাদিকরা আহত হয়েছেন।
এ সময় প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা করা হয় । আমিনুল নামে এক পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যাও করা হয়। এ ঘটনায় পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।