এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করে ফল পরিবর্তনে রেকর্ড

এসএসসি ও সমমানের প্রকাশিত ফল চ্যালেঞ্জ করে রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ১১ হাজার ৩৬২ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে।  এর মধ্যে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন এক হাজার ৮১১ জন শিক্ষার্থী, ফেল থেকে পাস করেছেন ২২১২ শিক্ষার্থী।  ফেল থেকে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনজন।  বাকি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গ্রেডে ফল পরিবর্তন হয়েছে।

গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার রেকর্ড ফল পরিবর্তন হয়েছে।

সোমবার (২৮ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।  এর মধ্যে ১০টি সাধারণ বোর্ডের প্রকাশিত পুনর্নিরীক্ষণের ফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

ঢাকা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ১ লাখ ৯১ হাজার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলেন ৭৩ হাজার ৪৬ পরীক্ষার্থী।  এর মধ্যে মোট ৩ হাজার ৮৫ জন পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে।  প্রকাশিত ফলে অকৃতকার্য ছিল এমন খাতা চ্যালেঞ্জ করে পাস করেছেন ১০৪ জন। আর নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৬২ জন। তবে ফেল করা কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে মোট ১০৮০ শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছেন ১৩০ জন শিক্ষার্থী।  এর মধ্যে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬২ জন।

বরিশাল বোর্ডের ৭ হাজার ৩৮৬ জন শিক্ষার্থী মোট ২১ হাজার ৩৯৭টি খাতা চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।  তার মধ্যে মোট ১৭১ জন পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে।  ফেল থেকে পাস করেছেন ৩ জন শিক্ষার্থী, আর নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৯ জন পরীক্ষার্থী।

যশোর শিক্ষাবোর্ডে মোট ৫৩৪ জন পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছেন ৫৪ জন শিক্ষার্থী।  আর নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫২ জন পরীক্ষার্থী।  আর একমাত্র এ বোর্ডেই ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ জন পরীক্ষার্থী।

খাতা পুনর্নিরীক্ষণে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ৪৭২ শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছেন ৭৯ জন।  আর নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৯ জন।

রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের মোট ৩৬১ শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছেন ৪৮ জন শিক্ষার্থী।  নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৬ জন।

দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে মোট ৩৭৭ জনের ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছেন ৭৫ শিক্ষার্থী।  আর নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৩ জন। বাকিদের বিভিন্ন গ্রেডে ফল পরিবর্তন হয়েছে।

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে ২৭ হাজার ৬০ জন শিক্ষার্থী মোট ৬৫ হাজার ৪০টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করে।  এর মধ্যে ৮৭৯ জনের ফল পরিবর্তন হয়। যার মধ্যে ৯৪ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন আর ১৮০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। বাকি ৬০৫ জনের বিভিন্ন গ্রেডে ফল পরিবর্তন হয়েছে।

মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডে মোট ২৩ হাজার ৬৬৫ জন ফল পরিবর্তনের আবেদন করেছিল।  এর মধ্যে ৪ হাজার ১৯৫ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। আর ফেল থেকে নতুন করে পাস করেছে ১ হাজার ৫৩৪ জন, নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৯৭জন।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফল এখনো বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়নি।

পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন হওয়া উত্তরপত্রের চারটি দিক দেখা হয়।  এগুলো হলো- উত্তরপত্রের সব প্রশ্নের সঠিকভাবে নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না, প্রাপ্ত নম্বর গণনা ঠিক রয়েছে কি না, প্রাপ্ত নম্বর ওএমআর শিটে উঠানো হয়েছে কি না ও প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী ওএমআর শিটের বৃত্ত ভরাট করা হয়েছে কি না?

পরীক্ষকদের উদাসীনতার কারণে প্রতিবছর এ ধরনের ঘটনা ঘটছে ।  শিক্ষকদের ভুলের খেসারত দিতে হয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।  বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর ফলাফল পরিবর্তনের পেছনে পরীক্ষকদের গাফিলতি রয়েছে বলে মনে করছেন বোর্ড কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে আন্তঃবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর আবুল বাশার বলেন, সব বোর্ডের তথ্য আমার কাছে নেই।  তবে যে তথ্য দেখা গেছে, এটি আসলেই উদ্বেগের বিষয়।  আর করোনার পর এবার সব বিষয়ে পরীক্ষা হয়েছে। এতে অনেকের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল হয়নি।

অল্প সময়ে ফল প্রকাশ করতে গিয়ে পরীক্ষকদের দ্রুত সময়ে খাতা মূল্যায়ন করারও একটা চাপ থাকে। এ চাপ সামলাতে গিয়ে পরীক্ষকরা এ ভুল করছেন বলে মনে করেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এর আগে ২০১৯ সালে টানা তিন বছর ধারাবাহিক গাফিলতির কারণে ১ হাজার ২৬ পরীক্ষককে শাস্তির আওতায় আনে শিক্ষাবোর্ড।  অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বোর্ডের আইন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।