ওষুধের দামে নির্ধারিত ছাড় না দেওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সোমবার (১৪ আগস্ট) রাতে ওষুধ দোকানিদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫-১৬ জন আহত হয়েছেন।
পরে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খুমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও সংঘর্ষে যোগ দেন এবং হামলাকারী ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের দাবিতে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
সোমবার (১৪ আগস্ট) রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী, ওষুধের দোকানদার ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় হাসপাতালের সামনের মেসার্স বিপ্লব মেডিসিন কর্নারে সবুজ সরকার নামের একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী কিছু ওষুধ কিনতে যান। সেখানে ওষুধের মোট মূল্য হয় ৭০ টাকা। ওই সত্তর টাকার ওষুধে ১০ শতাংশ কমিশন দিয়ে ৬৩ টাকা রাখার অনুরোধ জানান ওই শিক্ষার্থী। কিন্তু মাত্র ৭০ টাকার ওষুধে কোন কমিশন নেওয়ার সুযোগ নেই জানালে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। কিছুক্ষণ পর আরও কিছু শিক্ষার্থী মিলে ওই দোকানে গিয়ে ওষুধের দরদাম ও অবৈধ ওষুধ বিক্রির অভিযোগ তোলেন।
এক পর্যায়ে আশপাশের ওষুধের দোকানিরা এগিয়ে গেলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরে তিন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে অন্য শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে ওষুধের দোকানে হামলা চালায়।
খুমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম অন্তর ও সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জোহা সজিব বলেন, ওষুধের দোকানদারদের হামলায় একজন চিকিৎসকসহ সাতজন মেডিকেল শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তারা হলেন, ডা. হাসিব, সবুজ সরকার, হাসান ফেরদৌস, মেহেদী, আসিফ, তাহসিন ও নাসির ফুয়াদ।
এছাড়া বাংলাদেশ কেমিস্টস্ অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের হামলায় ওষুধের দোকানের মালিক-কর্মচারীদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে ৯ জনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন, আল-আমিন, বিপ্লব, শাওন, ইসরাফিল, হৃদয়, সোহাগ, মোস্তফা ও মাসুদুর রহমান মাসুদ।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (সাউথ) শেখ ইমরান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। হামলাকারীদের আটক করার চেষ্টা চলছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ওষুধের দোকানের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।