চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব নুরুল ইসলামের দখলীয় জায়গা জবরদখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী আবদুল মান্নানের বিরুদ্ধে। শুধু জায়গা দখল নয়, নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ায় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টারও অভিযোগ করেছেন ওই মুক্তিযোদ্ধা। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাতকানিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আশেকের পাড়া এলাকায় নিজ পৈতৃক ভিটায় সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম। সম্প্রতি তার বাড়ির গা ঘেঁষে নির্মাণকাজ শুরু করেন একই এলাকার আবদুর রহমানের ছেলে আবদুল মান্নান।
নুরুল ইসলামের অভিযোগ, নির্মাণকাজের সময় আবদুল মান্নান ও তার সহযোগীরা তার দখলীয় প্রায় তিন ফুট জায়গা জবরদখল করে তিনটি পিলার স্থাপন করে বসতঘর নির্মাণ করেন। পরে বাড়ির নির্মাণকাজ আরও এগিয়ে নেওয়া হয়। পাকা বাড়ি নির্মাণের কারণে ছাদের পানি পড়ে তার সেমিপাকা ঘরের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়ে। এতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, গত ৫ জুন তার জায়গায় জোরপূর্বক মাটি খনন করে পিলার স্থাপনের চেষ্টা করা হলে তিনি বাধা দেন। এ সময় আবদুল মান্নান ও তার সহযোগীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলার চেষ্টা চালান। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পান বলে দাবি করেন।
এ ঘটনায় নুরুল ইসলাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা নং-৪৩৫/২০২৬ দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে পাঠিয়েছেন। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে আবদুল মান্নানের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পৈতৃক ভিটায় এভাবে জবরদখল ও হামলার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি দ্রুত তদন্ত শেষ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের জায়গা দখল ও তার ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত আবদুল মান্নান ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিবৃতিদাতারা হলেন উপজেলা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক মৃদুল কান্তি দাশ, যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কাদের, সদস্য মীর আহমদ, নুর আহমদ, হিমাংশু বিমল দাশ এবং ইউনিয়ন কমান্ডার শশাঙ্ক বিমল দাশ, বাহারুল ইমাম, জগির আহমদ, আবদুল মোনাফ ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম।