এবারের বিশ্বকাপ থেকে কত টাকা আয় করল ফিফা

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় করতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টুর্নামেন্ট শেষে সংস্থাটির মোট আয় দাঁড়াতে যাচ্ছে প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার), যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রায়। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ বিলিয়ন ডলার আয়, তবে শেষ পর্যন্ত সেই পূর্বাভাসকে অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে প্রকৃত রাজস্ব।

এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় হয়েছিল ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। আর ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে আয় হয়েছিল ৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় এবারের বিশ্বকাপে আয়ের পরিমাণ নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদস্যদেশগুলোর ফুটবল সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই তথ্য জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, উচ্চমূল্যের হসপিটালিটি প্যাকেজ বিক্রি এবং সেকেন্ডারি (পুনর্বিক্রয়) টিকিট বাজার থেকেই এসেছে এই অতিরিক্ত রাজস্বের বড় অংশ। পুনর্বিক্রয় হওয়া প্রতিটি টিকিটে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ কমিশন পেয়েছে ফিফা।

রেকর্ড পরিমাণ এই আয়ের একটি অংশ সদস্যভুক্ত জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে বণ্টনের পরিকল্পনাও রয়েছে। যদিও কীভাবে সেই অর্থ ভাগ করা হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিশ্বকাপের এই বাণিজ্যিক সাফল্য ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর জন্যও বড় স্বস্তির খবর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত আসর চলাকালে বিভিন্ন বিতর্কে সমালোচনার মুখে পড়লেও আর্থিক সাফল্য তার নেতৃত্বকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সমালোচকদের অভিযোগ ছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাবেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যদিও ফিফা দাবি করেছে, তাদের স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটিই বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তবু এই ইস্যুতে ইউরোপের কয়েকটি ফুটবল সংস্থার মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে।

আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা সভাপতির নির্বাচন। ইতোমধ্যে ২০০টিরও বেশি সদস্যদেশের ফুটবল সংস্থার সমর্থন পেয়েছেন ইনফান্তিনো। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত এই বিপুল আয়ের সুফল সদস্য সংস্থাগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হলে তার প্রতি সমর্থন আরও জোরালো হবে।

এদিকে এই আর্থিক সাফল্যের পর ভবিষ্যতে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনাও বেড়েছে। বর্তমানে ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য বিড প্রক্রিয়া সামনে রয়েছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ভবিষ্যতেও বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রেরই পাওয়া উচিত, তবে এবার কানাডা ও মেক্সিকো ছাড়া।

এ ছাড়া ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়েও ফিফার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের রাত পর্যন্তও নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত স্পেন-আর্জেন্টিনা ম্যাচের জন্য ফিফার টিকিটিং পোর্টালে ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজ বিক্রি চলেছে। এর মধ্যে ‘ট্রফি লাউঞ্জ’ প্যাকেজের একেকটি টিকিটের মূল্য ছিল ৩৪ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার, যা এবারের বিশ্বকাপের বিশাল বাণিজ্যিক সাফল্যেরই আরেকটি উদাহরণ।