বরিশাল-খুলনা সিটি নির্বাচন আজ
বরিশালে ‘ছায়া’ বিএনপির সাথে লড়াই নৌকার, খুলনায় নির্ভার আ.লীগের আবদুল খালেক
আজ সোমবার বরিশাল ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট সম্পন্নের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। দুই নগরের বাসিন্দারাও উৎসবমুখর ভোটের অপেক্ষায় রয়েছেন। ইতোমধ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে ইভিএমসহ অন্যান্য সরঞ্জাম। সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীও।
নির্বাচনের প্রতীক পাওয়ার পর থেকে প্রার্থীরা তাদের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে প্রচার- গণসংযোগে দুই শহরেই ছিল সরগরম। এ সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রার্থীরা ছোট খাটো কিছু অভিযোগ করলে বড় ধরনের কোন গন্ডগোল কোথাও হয়নি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই প্রচারনা চালিয়েছে।
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির কোন প্রার্থী নেই। জাতীয় পাটি ও অন্য দলের প্রার্থী যারা আছেন তাদের ভোট ব্যাংক আওয়ামী লীগের প্রার্থীর তুলনায় অনেক কম। তাদের প্রচার প্রচারনাও তেমন চোখের পড়ার মতো নয়, বিধায় সেখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বিজয়ের ব্যাপারে অনেকেটায় নির্ভার। কিন্তু বরিশাল সিটিতে দলীয় ভাবে বিএনপি না থাকলেও বিএনপি দলীয় সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের ছেলে কামরুল আহসান ওরফে রূপণ মাঠে রয়েছে। এখন প্রচার শেষে সর্বত্র আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর ম‚ল প্রতিদ্বন্দ্বী কে হতে যাচ্ছেন।
এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কখনো ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সৈয়দ ফয়জুল করিম, কখনোবা সাবেক মেয়র আহসান হাবীব কামালের ছেলের নাম এসেছে। জাতীয় পাটির প্রার্থী ইকবাল হোসেনও মাঠে আছেন। বিএনপি এই নির্বাচনে নেই। কিন্তু ভোটের হিসাব-নিকাশে বিএনপির ‘ভোটব্যাংকের’ দিকেই সবার নজর। বিএনপি দলীয় ভাবে না থাকলেও নির্বাচনে বিএনপির ‘ছায়া’ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে অদৃশ্য কেউ।
এদিকে বোঝার ওপর শাকের আঁটির মতো দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলও চেপে বসেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মাথার ওপর। বিশেষ করে, বরিশাল নিয়ে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ জমে ছিল প্রচারের শুরু থেকে, যা দেখা গেছে ভোটের আগ মুহ‚র্ত পর্যন্ত।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহর বিজয়ে ক্ষাণিকটা ভয় এখানে। তবে তিনি গতকাল রবিবার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, বিএনপির ভোটারটাও আমাকে ভোট দেবেন।
খায়ের আবদুল্লাহর বিপরীতে থাকা তিন প্রার্থীই আওয়ামী লীগ বা সরকারবিরোধী ভোট টানবেন, সাধারণভাবে এমনটাই ধারণা করা হয়। সে হিসেবে বিএনপিবিহীন এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে যতটা নির্ভার থাকার কথা, সেটা পারছে না। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলছেন, তাঁদের একটা উদ্বেগ হচ্ছে, সরকারি দলকে হারানোর মনোভাব নিয়ে বিরোধী দলের সমর্থকেরা নীরবে এক জোট হয়ে যান কি না এবং সবাই কোনো একজন প্রার্থীর দিকে ঝুঁকে পড়েন কি না। যেমনটা গাজীপুরে জাহাঙ্গীরের মায়ের ভোটের ক্ষেত্রে হয়েছিল বলে মনে করেন সেখানকার নেতারা।
বরিশালে স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব এতটাই গভীর যে দলটির শীর্ষ নেতারাও তা দ‚র করতে পারেননি। বিশেষ করে সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ ও তার অনুসারীরা নৌকার প্রার্থী আবুল খায়ের সেরনিয়াবাতকে (খোকন সেরনিয়াবাত) কখনোই মেনে নিতে পেরেছেন বলে মনে হয়নি। নির্বাচনী প্রচারের মাঠে এর প্রমাণ মিলেছে নানা ঘটনায়। মাঠে থাকলেও খোকনের সমর্থকদের ধারণা, সাদিকের সমর্থকরা মনপ্রাণ ঢেলে কাজ করছে না। তাদের আশঙ্কা, সাদিকপন্থিদের ভোটের বড় অংশ চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমের পক্ষে চলে যাবে।
বিএনপির ভোটেরও একটি বড় অংশ চলে যেতে পারে হাতপাখায়। এ কারণে গাজীপুরের মতো অপ্রত্যাশিত ফলের আশঙ্কা রয়েছে বরিশাল ঘিরে। তবে নৌকার জয় নিয়ে আশাবাদী দলটির হাইকমান্ড। দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, শুরুতে দলের মধ্যে কিছু কিছু জায়গায় সমস্যা থাকলেও শেষের দিকে এসে তা দূর হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এতে নৌকার প্রার্থী বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলে তিনি আশাবাদী।
বিএনপির ভোটব্যাংক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে, এ নিয়ে গতকালও দিনভর বরিশালে নানা রকম আলোচনা ছিল চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন পর্যন্ত। একটি বেসরকারী চ্যনেলে এক ভোটার মন্তব্য করলেন, ‘যা-ই বলেন, শেষমেশ নৌকাই পাস করবে।’ এ সময় আরেকজন রিকসা চালক পাল্টা মন্তব্য করলেন, ‘যা হুনি বুঝি, তা অইলো, বিএনপি যে দিকে যাইবে, হেই পাল্লা ভারী অইবে। হ্যার লগেই কনটেস্ট অইবে নৌকার।’
অবশ্য ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচনের সময় কে জিতবে, কে হারবে এমন মন্তব্য প্রকাশ্যে করতে দেখা যায়নি। এবার ব্যতিক্রম। ভীতির সঞ্চার হতে পারে, তেমন পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। যারা ভীতি তৈরি করতে পারে, তাদের এবার সেভাবে মাঠে দেখাও যাচ্ছে না। নির্বাচনের প্রচার শান্তিপূর্ণ হওয়ায় ভোটের দিনের পরিবেশ নিয়ে খুব একটা শঙ্কার কথাও শোনা যাচ্ছে না। এ কারণেই ভোটের হিসাব-নিকাশটা আলোচনায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
স্থানীয় রাজনৈতিক স‚ত্রগুলো বলছে, বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের অতীতেও তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৩ সালে সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন তৎকালীন মেয়র শওকত হোসেন (হিরণ)। জনপ্রিয়তার দিক থেকে তিনি এগিয়ে ছিলেন বলেই মনে করা হতো। সেই শওকত হোসেনকে ১৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেন তখনকার বিএনপির মেয়র প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল। অবশ্য ওই সময় এমন অভিযোগও উঠেছিল যে দলে শওকত হোসেনের দাপট কমাতে আওয়ামী লীগেরই একটা অংশ ভেতরে ভেতরে বিরোধীদের সহায়তা করেছে। এবার সে রকম কিছু হলে বিপাকে পড়তে হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খায়ের আবদুল্লাহকে।
জাতীয় পাটির প্রার্থী ইকবাল হোসেন প্রচারে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর ভাই জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম তসলিম উদ্দিন। ভাইয়ের কারণে বিএনপি সমর্থকদের একাংশের ভোট ইকবাল পেতে পারেন বলে আলোচনা আছে।
এবার ভোটের লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বাইরে চোখে পড়ার মতো তৎপরতা ও প্রচারে দেখা গেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সৈয়দ ফয়জুল করিমকে। দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতাকে জেতাতে আটঘাট বেঁধে নেমেছে ইসলামী আন্দোলন। বিএনপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের একাংশের ভোটের দিকেও নজর ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী।
এঁদের পাশাপাশি ভোটের মাঠে আলোচনায় আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসানও। সাবেক ছাত্রদল নেতা ও সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের ছেলে কামরুল প্রচার চালিয়েছেন অনেকটা নীরবে। কামরুলের ঘনিষ্ঠদের মতে, স্বতন্ত্র হলেও কামরুল দিন শেষে বিএনপি পরিবারের সন্তান। নীরব প্রচারে তাঁরা এটাই বলার চেষ্টা করেছেন।
জাতীয় পাটির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস বলেছেন, যতই বাধা বিপত্তি থাকুক না কেনো আপনারা সেন্টারে যাবেন এবং আপনারা ভোট দেয়ার চেষ্টা করবেন।
বিএনপির ভোটব্যাংক নিয়ে কেন এত আলোচনা প্রসঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিকদের ভাষ্য, ২০০৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এনায়েত পীরকে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির মজিবুর রহমান সরোয়ার। ওই নির্বাচনে বিএনপির আরও দুই প্রার্থী অংশ নেওয়ায় তাঁদের সম্মিলিত ভোটের হিসাবে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল অর্ধেকের কম।
এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শওকত হোসেন বিজয়ী হলেও ভোটের ব্যবধান ছিল ৫৮৪। যেখানে বিএনপি নেতা সরফুদ্দিন আহমেদ ছিলেন তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এই নির্বাচনে বিএনপির আরও দুই প্রার্থী ছিলেন। বিএনপির তিন প্রার্থী মিলে শওকত হোসেনের দ্বিগুণ ভোট পেয়েছিলেন। ২০১৩ সালের নির্বাচনে প্রায় ১৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হারলেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। এ কারণে এই নির্বাচনেও বিএনপি সমর্থক ভোটারদের গুরুত্বপ‚র্ণ ভাবা হচ্ছে।
এ নির্বাচনে মেয়র পদে মোট প্রার্থী সাতজন। বাকি তিন প্রার্থী জাকের পাটির মিজানুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান ও মো. আলী হোসেন হাওলাদার সেভাবে আলোচনায় নেই।
খুলনা সিটি নির্বাচন
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক (নৌকা), জাতীয় পার্টি মনোনীত মো. শফিকুল ইসলাম মধু (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মো. আব্দুল আউয়াল (হাতপাখা) ও জাকের পার্টি মনোনীত এস এম সাব্বির হোসেন (গোলাপফুল) এবং একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান মুশফিক (দেওয়াল ঘড়ি)।
এছাড়া সাধারণ ৩১টি ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে ১৩৬ জন, ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে এস এম খুরশিদ আহমেদ টোনা এবং ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে জেড এ মাহমুদ ডন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
এদিকে, নগরীতে টহল দিচ্ছে বিজিবির ১১ প্লটুন সদস্য। আজকে ভোটকেন্দ্র ও নগরীর নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৮ হাজার ৩০০ সদস্য। নির্বাচনী মাঠে থাকবেন ৪৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১০ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকবেন ৫ হাজার ৭৬০ জন কর্মকর্তা। ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে ২ হাজার ৩০০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। ইভিএম মেশিন প্রয়োজন হচ্ছে প্রায় ৩ হাজারটি। পর্যবেক্ষক থাকবেন বেসরকারি দুটি সংস্থার ২০ জন ও নির্বাচন কমিশনের ১০ জন প্রতিনিধি।
সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ, চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচারও।
যদিও ভোটের আগে অনেকটাই নির্ভার সময় পার করছেন খুলনায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। গতকাল রোববার দুপুর ২টার দিকে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দেখা যায়, দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখানে বসে আছেন আবদুল খালেক। পত্রিকা পড়ে এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে গল্প করে সময় কাটাচ্ছেন। এদিন সকাল থেকেই তিনি দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।
সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচনে জয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আবদুল খালেক। তিনি জানান, সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফ‚র্ত অংশগ্রহণে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। বিগত দিনের উন্নয়নের কথা নগরবাসী ভুলবে না। ফলে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত হবে বলেও মনে করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের এই মেয়র প্রার্থী বলেন, ‘মানুষ বিএনপিকে বিশ্বাস করে না। ভোটাররা কেন্দ্রে আসবে এবং যোগ্য প্রার্থীকে ভোটের মাধ্যমে জয়ী করবে।’
খুলনার উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়ে আবদুল খালেক আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনার উন্নয়নে যে পরিমাণ টাকা দিয়েছেন, তা ইতিহাসে বিরল। আমরা কাজ শুরু করেও করোনার জন্য দুই বছর পিছিয়ে গেছি। কিন্তু আমাদের বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। এই কাজ শেষ হলে খুলনা হবে তিলোত্তমা নগরী।’
চলমান উন্নয়নম‚লক কাজ শেষ করতে সামবার ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটারদের ভোট দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, আমি এলাকার প্রত্যেকের সঙ্গে গণসংযোগ করেছি, তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছি। তারা যেন নৌকায় ভোট দেন।
নির্বাচন অফিসের দেয়া তথ্যমতে, বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ১২৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৬টি এবং খুলনায় ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রের ১৬১টি ঝুঁকিপূর্ণ।
খুলনা সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫৩৯। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩৩ এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৬। এবার ৪২ হাজার ৪৩৬ জন ভোটার বেড়েছে।