যুবলীগ নেতাকে হত্যায় ব্যবহৃত গাড়ি-বোরকা ও জুতা উদ্ধার

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন হত্যায় জড়িত আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া হত্যায় আসামিদের ব্যবহৃত গাড়ি, জুতা ও বোরকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৮ মে) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান এ তথ্য নিশ্চিত করেছন।

রোববার (৭ মে) এজাহার নামীয় তিন আসামি মো. ইসমাইল, সোহেল শিকদার ও শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে র‌্যাব। তবে আসামিদের ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি এলাকার মো. রবি (৩৩), একই এলাকার মো. শাহ পরান (৩৪) এবং একই উপজেলার লালপুর এলাকার গাড়িচালক সুমন হোসেন (২৭)। তাঁদের মধ্যে শাহপরান মামলার ৮ নম্বর আসামি জিয়ারকান্দি গ্রামের অলি হাসানের ভায়রা। রবি এই হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৯ নম্বর আসামি কালা মনিরের ভাই।

পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার তিনজন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের পরিবহন, ভিকটিমের তথ্য দেয়া এবং আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।

উল্লেখ, গত ৩০ এপ্রিল রাত আটটার পর কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরিপুর পশ্চিম বাজার বাইতুন নুর জামে মসজিদ এলাকার সুমাইয়া কনফেকশনারির সামনে বোরকা পরা তিন দুর্বৃত্ত গুলি করে যুবলীগ নেতা জামাল হোসেনকে হত্যা করে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় নিহত জামাল হোসেনের স্ত্রী পপি আক্তার বাদী হয়ে দাউদকান্দি থানায় নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা সাত থেকে আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জামাল হোসেন গৌরীপুর বাজারে ব্যবসা করতেন। কয়েক বছর আগে গৌরীপুর মোড়ে খুন হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা মনির হোসেনের অনুসারী ছিলেন জামাল হোসেন। তিতাস উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের বিবদমান পক্ষগুলোর দ্বন্দ্বের জেরে এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তিনি খুন হয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।