জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন

‘দেশ-পরিবেশের পাশাপাশি মানুষের মনও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে’

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, শুধু দেশ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করলেই হবে না, মানুষের মনও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্য সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দিতে হবে। পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি শুধু সরকারি কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এতে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীসহ জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসন বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে সম্ভব নয়। পরিচ্ছন্নতাকে সাময়িক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিকদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে জেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একা একটি শহরকে পরিবর্তন করতে পারে না। এজন্য নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে।

জেলা প্রশাসক জানান, গত ২৫ জুলাই থেকে সারা জেলায় ধারাবাহিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। প্রথম দিনের অভিযানে ৬ হাজার ২২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। ওইদিন বিভিন্ন সরকারি অফিসের ছাদ ও প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় ১৩৫ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পুকুর ও পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এটিকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের কর্মসূচি হিসেবে দেখতে চাই না। এটি মানুষের অভ্যাসে পরিণত হোক। অভ্যাসে পরিণত হলে আর দিন বা সময় বেঁধে দিতে হবে না; মানুষ নিজ দায়িত্বেই নিজের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখবে।’

শনিবার জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সের পাশাপাশি চান্দগাঁও ও পটিয়ার বিভিন্ন পুকুরসহ জেলার আরও কয়েকটি স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বছরব্যাপী চলবে এবং পর্যায়ক্রমে আরও বিস্তৃত করা হবে।

প্রায় ১৬ একর ৩৮ শতক জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে আরও পরিচ্ছন্ন ও দর্শনার্থীবান্ধব করে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার প্রতিরূপ নিয়ে এখানে গড়ে উঠেছে ‘মিনি বাংলাদেশ’। জাতীয় সংসদ ভবন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, কান্তজীর মন্দির, কার্জন হল ও আহসান মঞ্জিলসহ বিভিন্ন স্থাপনার প্রতিরূপ রয়েছে এখানে। ফলে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী মানুষের জন্য স্থানটি গুরুত্বপূর্ণ।

কালুরঘাটের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সের সঙ্গে মানুষের আবেগ ও আগ্রহ জড়িয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য স্থানটিকে নিরাপদ ও মানসম্মত বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় জেলা প্রশাসন।

সাম্প্রতিক সময়ে কমপ্লেক্সটির বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো সংস্কার ও কমপ্লেক্সটি পুনরায় সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে।

তবে সংস্কারকাজ শুরুর আগেই পুরো এলাকা পরিচ্ছন্ন করে দর্শনার্থীদের জন্য সুন্দর পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষ যেন এখানে এসে নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে সময় কাটাতে পারে এবং দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে—সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে আগামী প্রজন্মের জন্য সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চট্টগ্রামকে নান্দনিকভাবে সাজানোর আরও কয়েকটি পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে আরও বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে ধারাবাহিক সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে এগিয়ে নিতে নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।