চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের অভিযান: ৪ প্রতিষ্ঠানকে ৪০ লাখ টাকা জরিমানা

চট্টগ্রাম নগরীতে খাদ্য নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে চার প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। অভিযানে নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, পণ্যে সঠিক লেভেলিং না থাকা এবং প্রয়োজনীয় সনদ ছাড়া ব্যবসা পরিচালনাসহ নানা অনিয়ম ধরা পড়ে।

শনিবার (২২ আগস্ট) নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত, চট্টগ্রাম মহানগরের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা। অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক, র‍্যাব-৭, সিএমপি ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

অভিযানে ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারিকে ১৯ লাখ, মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডকে ১০ লাখ, উৎসব সুপার শপকে ১০ লাখ এবং রিও ক্যাফে-মাজায়দারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

ফ্লেভারস সুইটসে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা

অভিযানে ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারির কারখানায় নিম্নমানের ঘি ব্যবহার, পচা-বাসি মিষ্টির উচ্ছিষ্টাংশ সংরক্ষণ ও ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি-কেক-বিস্কুট রাখা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ ছাড়া পোকাযুক্ত বাদাম, অপরিষ্কার সরঞ্জাম, নোংরা ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ফ্রিজারে সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ও মান নিয়ন্ত্রণ সনদ না থাকার বিষয়ও ধরা পড়ে।

এসব অনিয়মের দায়ে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হয়ে মানোন্নয়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টসে নানা অনিয়ম

মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডে চিপস, নুডলস ও ম্যাংগো বারের মান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন, তেলাপোকার উপস্থিতি এবং ম্যাংগো পাল্পের ড্রামে পোকামাকড় পাওয়ার অভিযোগ ধরা পড়ে।

এ ছাড়া পোড়া তেল ব্যবহার এবং মেয়াদসংক্রান্ত তথ্যবিহীন খাদ্যপণ্য সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর আদালতে উপস্থিত হয়ে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উৎসব সুপার শপেও ১০ লাখ টাকা জরিমানা

উৎসব সুপার শপে মেয়াদোত্তীর্ণ মোমোস, নষ্ট মরিচ, মশলা ও চকোলেট সংরক্ষণ ও বিক্রয়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস রাখা এবং নিম্নমানের আচার ও হোমমেইড পণ্য বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়।

এ ছাড়া আমদানিকৃত বিভিন্ন জুস, মধু, পানি, বাদাম, এনার্জি ড্রিংকস, অলিভ অয়েল ও সয়া সসে প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকা এবং নিজস্ব স্টিকার দিয়ে পুষ্টিতথ্য ঢেকে রাখার বিষয়ও ধরা পড়ে।

শিশুখাদ্য ও অনুমোদনবিহীন ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রির অভিযোগসহ এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রিও ক্যাফেতে ১ লাখ টাকা জরিমানা

অন্যদিকে রিও ক্যাফে-মাজায়দারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও বিক্রয়, পচা-বাসি খাবার সংরক্ষণ, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং চকোলেট ডোনাট ও পেস্ট্রিতে মেয়াদসংক্রান্ত তথ্য না থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।

প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও সনদ ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মেট্রোপলিটন নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম জানান, জনস্বার্থে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।