দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামরিক তৎপরতা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে জোরদার করেছেন।
গত বড়দিনের সময় নাইজেরিয়ায় এবং ডিসেম্বর থেকে সিরিয়ায় একাধিকবার জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের (IS) বিরুদ্ধে হামলার পর গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তিনি ইরানে ‘মেজর কমব্যাট অপারেশনস’ বা বড় ধরনের সামরিক অভিযান ঘোষণা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রকাশ্য অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে ইতোমধ্যে সাতটি দেশে সরাসরি হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এই তালিকায় ইরান, ইরাক, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সিরিয়া ও নাইজেরিয়া রয়েছে। তবে সবচেয়ে আলোচিত অভিযানটি ছিল গত ৩ জানুয়ারি দক্ষিণ আমেরিকায়। সেদিন ভোরে ভেনেজুয়েলায় একটি বিশেষ ‘অপারেশন রেইড’ চালিয়ে মার্কিন বাহিনী দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে। ওই অভিযানে প্রায় ৭৫ জন নিহত হন। এছাড়া ক্যারিবীয় সাগর এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে কথিত মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধেও ট্রাম্পের নির্দেশে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার সকালে এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প জানান, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এই যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, পুরো অঞ্চল থেকে ‘অস্তিত্বের হুমকি’ দূর না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে। বর্তমানে তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলোতে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান একটি ‘বিধ্বংসী’ প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইতোমধ্যে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। গত কয়েক দিন ধরেই এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র বিশাল নৌবহর ও বিমানবাহিনী মোতায়েন করেছে। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে আলোচনার টেবিলে নতি স্বীকার করাতে না পেরেই ট্রাম্প এই যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্য ছাপিয়ে পুরো বিশ্বে একটি বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে।