গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানাধীন বিন্দান এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, ব্যানার ছেঁড়া ও নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পূবাইল থানা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গাজীপুর মহানগরের যুগ্ম দায়রা জজ, ক্যাম্প কমান্ডার এবং কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকাল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে গাজীপুর-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোঃ খায়রুল হাসানের পক্ষে বিন্দান উচ্চ বিদ্যালয়ের আশপাশ এলাকায় ব্যানার স্থাপন করছিলেন দলীয় কর্মীরা। এ সময় বিএনপির পূবাইল থানা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির সরকারসহ তাঁর অনুসারী আনোয়ার মোড়ল, যুবদল নেতা আরমান মোল্লা এবং আরও ৮–১০ জন সেখানে উপস্থিত হয়ে জামায়াত নেতাকর্মীদের প্রচার কার্যক্রম বন্ধ করতে হুমকি দেন। অভিযোগে বলা হয়, তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বিন্দান এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কোনো প্রচারণা চলতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দেন। এমনকি ব্যানার লাগালে ‘পিঠের চামড়া তুলে নেওয়া হবে এ ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনও করা হয়।
পরে একই দিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে জাকির সরকারের নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা বাদুরতলা ব্রিজ থেকে বিন্দান উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত জামায়াতের সকল নির্বাচনী ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি জামায়াতের কর্মীদের গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া অব্যাহত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পূবাইল থানা শাখার নায়েবে আমীর মোঃ শামীম হোসেন মৃধা জানান, এ ঘটনায় তাদের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ ও স্বাভাবিক প্রচারণা পরিচালনা নিয়ে জানমাল ও সুনামের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৭৩ (৩)(ক) এবং নির্বাচন আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ (সর্বশেষ সংশোধনী ২০২৩) এর বিধি ১১(ক) ও ১১(গ) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যা আচরণবিধির ১৭(১) অনুযায়ী ‘নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম’ হিসেবে গণ্য হয়। এ ঘটনায় বিকেলে বিন্দান এলাকায় পূবাইল থানা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বিএনপি নেতা জাকির সরকার জানান, তিনি কাউকে হুমকি দেননি। তার দাবি, শুধু নিজের বাড়ির পাশ দিয়ে ব্যানার লাগাতে নিষেধ করেছিলেন, এর বাইরে কোনো ঘটনা ঘটেনি।