চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে তিনদিনের বৈশাখী মেলা। কাল শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী আব্দুল জব্বারের বলীখেলা। খেলা ও মেলার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে উৎপাদিত লোকজ পণ্য আসতে শুরু করেছে চট্টগ্রামের বৃহত্তম এ বৈশাখী মেলায়। লালদীঘির আশপাশের এলাকায় পসরা সাজাচ্ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা দোকানিরা। ফুলের ঝাড়–, হাতপাখা, বেতের তৈরি খাঁচা কিংবা মাটির তৈরি তৈজসপত্র সবকিছুই সাজানো শুরু হয়েছে থরে থরে। আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠেয় জব্বারের বলী খেলাকে কেন্দ্র করে বসা এ মেলা এবার যেন একটু আগেভাগেই জমজমাট হয়ে উঠেছে।
আজ বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিন দিনের বৈশাখী মেলা শুরুর কথা থাকলেও গতকাল বুধবার থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম আসছেন সারা বছর ধরে মেলার প্রতীক্ষায় থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
কথা হয় মুসলিম হাই স্কুলের সামনে বাঁশের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্পের পসরা নিয়ে বসা রহমান আলী সঙ্গে। তিনি জানান, জামালপুর জেলার হরিণডাঙ্গা এলাকা থেকে ৮ জনের একটি দল এসেছে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী নিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে বাঁশের তৈরি কুলা, ডালা, টুকরি, চাটাই, চালুনি, হাতপাখা, ঝুঁড়িসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্য। প্রতিবছর এই মেলার জন্য ৬ মাস ধরে প্রস্তুতি নেন তারা। মেলা শুরুর আগেই এসে যান চট্টগ্রাম। রহমান আলী বলেন, প্রায় দেড় যুগ ধরেই প্রতিবছর জব্বারের বলীখেলা উপলক্ষে আয়োজিত এই মেলায় আসেন তারা।
আন্দরকিল্লা মোড় থেকে টেরিবাজারের দিকে নামতেই বাম পাশে ফুটপাতে পসরা সাজিয়েছে ফুলঝাড়ু বিক্রেতারা। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে প্রচুর ফুলঝাড়ু উৎপাদন হয়। সেখান থেকেই ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক কম দামে কিনে এই বৈশাখী মেলায় বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। ঝাড়ু বিক্রেতা আবুল হাশেম বলেন, এটাই আমাদের ব্যবসা, এটা করেই জীবিকা চালাই। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ ফুলঝাড়ু কেনার জন্য লালদীঘির বৈশাখী মেলার অপেক্ষায় থাকেন। তাই মেলার তিন দিনে প্রচুর বেচাকেনা হয়।
নগরীর লালদীঘির পশ্চিম ও উত্তর পাশে সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফল-ফুলের চারা। সঙ্গে চারা লাগানোর টবও। কেসি দে রোড এলাকার দুই পাশেই শোভা পাচ্ছে মাটির তৈরি তৈজসপত্রের সারি। বেচাবিক্রি শুরুর আগেই বিভিন্ন জিনিসের ওপর রঙতুলি চালাতে দেখা যায় দোকানিদের।
পুরাতন গির্জা এলাকায় বসেছে শীতল পাটির সারি। সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা ডিজাইন ও মানের শীতল পাটি নিয়ে এসেছেন মেলায়। সিলেট থেকে আসা ষাটোর্ধ্ব বয়সী আকসার হোসেন এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, বিগত দুই যুগ ধরে প্রতিবছর জব্বারের বলীখেলার মেলায় আসেন তিনি। এখানে সিলেটের পাটির প্রচুর চাহিদা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারা বছর মিলে আমাদের যে ব্যবসা হয় তার মধ্যে অর্ধেকের বেশি হয় এই মেলায়।
আবদুল জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব আনোয়ার শওকত বাদল দেশ রূপান্তরকে বলেন, বলীখেলাকে ঘিরে বৈশাখী মেলাও আমাদের শত বছরের ঐতিহ্য। এটি বলীখেলার পরিপূরক। বলীখেলার মতো এই মেলার প্রতিও চট্টগ্রামের মানুষের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে।
আয়োজকরা জানান ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর, রাজশাহী, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদীসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেক দোকানি নিজেদের পণ্য নিয়ে মেলার পথে রয়েছেন।