সাগরিকায় টাইগারদের দাপুটে জয়

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড প্রথম টি-টোয়েন্টি

টি-টোয়েন্টির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। এই ফরম্যাটে তাদের বিপক্ষে দুইবার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দেখায় হার দেখছিল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবারও (৯ মার্চ) ম্যাচ শুরুর আগে খাতাকলমে এগিয়ে ছিল ইংলিশরাই। তবে সাগরিকায় দেখা গেছে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। দ্বিতীয়বার দেখাতেই উড়িয়ে দিয়েছে টাইগাররা। আরেক ভাষায় বলতে হয়, ঘরের মাঠে টাইগারদের কাছে কিসের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কিংবা অন্য দল! বাঘের সামনে দাঁড়াতে যে সবারই ভয় হয়! এই বাংলাদেশের সামনে পাত্তাই পায়নি টি-টোয়েন্টির বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাও।

তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম খেলায় ১২ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটে জয় পেয়েছে টাইগাররা। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ১৫৬ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। লক্ষ্য তাড়ায় নাজমুল হোসেন শান্তর ৩০ বলের ৫১ আর সাকিব আল হাসানের ২৪ বলের ৩৪ রানের অনবদ্য ইনিংসের সুবাদে ৪ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এই জয়ে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে উড়ন্ত সূচনা করে বাংলাদেশ। লিটন দাসের সঙ্গে ওপেনিংয়ে ২০১৫ সালের পর জাতীয় দলে ফেরা রনি তালুকদার দারুণ শুরু করেছিলেন। ৩.৩ ওভারে ৩৩ রানের জুটি গড়েন দুজনে। তবে ভালো শুরুর পরও নিজের ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি তিনি। ইংলিশ তারকা লেগ স্পিনার আদিল রশিদের গুগলি বুঝতে না পেরে বোল্ড হন রনি। সাজঘরে ফেরার আগে ১৪ বলে চার বাউন্ডারিতে করেন ২১ রান। তার বিদায়ে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

রনি আউট হওয়ার পর অবশ্য আরেক ওপেনার লিটনও ইনিংসটা বড় করতে পারেননি। ১১ রানের ব্যবধানে ফেরেন তিনিও।
১০ বলে ১২ করে আর্চারের বলে ক্যাচ দেন মিডঅনে। ৪৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৫৪ রান তোলে টাইগারররা।

এরপর তৃতীয় উইকেটে অভিষিক্ত তৌহিদ হৃদয় আর নাজমুল হোসেন শান্তও দারুণ ব্যাটিং করেছেন। ৩৯ বলে ৬৫ রানের ঝোড়ো এক জুটি গড়েন তারা। তবে ১১.২ ওভারে দলীয় ১০৮ রানে মঈন আলীর বলে স্যাম কারেনের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন তৌহিদ হৃদয়। অভিষেক ম্যাচে তিনি করেন ১৭ বলে দুই চার আর এক ছক্কায় ২৪ রান। তার বিদায়ে ভাঙ্গে জুটি।

হৃদয় আউট হওয়ার পরের ওভারেই আউট হন দুর্দান্ত খেলে যাওয়া নাজমুল হোসেন শান্তও। ফিফটি তুলে নেওয়ার পর মার্ক উডের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। তার আগে ৩০ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৫১ রান করেন এই বাঁহাতি।

তবে এরপর সাকিব আর আফিফ হোসেন ধ্রুব মিলে ম্যাচ বের করেই মাঠ ছাড়েন। পঞ্চম উইকেটে ৩৪ বলে ৪৬ রানের অবিচ্ছিন্ন এক জুটি গড়েন তারা। সাকিব ২৪ বলে ৩৪ আর আফিফ ১৩ বলে ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে টসভাগ্য ছিল বাংলাদেশের পক্ষে। টস জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। শুরুটা একদমই দুর্দান্ত ছিল স্বাগতিকদের। ওপেনার ফিল সল্ট আর জস বাটলার ১০ ওভারের ওপেনিং জুটিতেই তুলে ফেলেন ৮০ রান।

এরপর মাত্র ৮ রানের ব্যবধানে ২ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। সল্টকে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে জুটিটি ভাঙেন নাসুম আহমেদ। কট বিহাইন্ড দিয়েছিলেন আম্পায়ার মাসুদুর রহমান, সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নেন ইংলিশ ওপেনার। তবে আল্ট্রা-এজে দেখা যায় বল ব্যাটের নিচের দিকে লেগেছে বল। ৩৫ বলে ৩৮ রানে ফেরেন সল্ট।

এরপর সাকিবকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লংঅনে ধরা পড়েন ডেভিড মালান (৪)। বাটলার তবু হাত খুলে খেলে যাচ্ছিলেন। হাসান মাহমুদকে ছক্কা মেরে ৩২ বলে ফিফটি করেন, পরের বলে হাঁকান আরেকটি ছক্কা।

বেন ডাকেটও শুরুটা ভালো করেছিলেন। ১৩ বলে ২০ করা এই ব্যাটারকে দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন মোস্তাফিজ। তখনও ইংল্যান্ড বেশ ভালো অবস্থানে ছিল।

১৬ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের রান ছিল ৩ উইকেটে ১৩৫। সংগ্রহটা বেশ বড় হবে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ডেথ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করলেন হাসান মাহমুদ। ভালো করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদরাও।

১৭ থেকে ১৯-এই তিন ওভারে মাত্র ১২ রান নিতে পেরেছে ইংল্যান্ড। এর মধ্যে হাসান মাহমুদের দুই ওভারে ইংলিশরা তুলতে পারে মাত্র ৫ রান। ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৬ রানেই থেমে যায় জস বাটলারের দল।

বাংলাদেশের হয়ে হাসান ২৬ রান দিয়ে দুটি এবং সাকিব, তাসকিন, মুস্তাফিজ ও নাসুম নেন একটি করে উইকেট।

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ আগামী ১২ মাচ রাজধানীর মিরপুরে। ম্যাচটি শুরু হবে বিকাল ৩টায়।