চট্টগ্রামের রাউজানে বন বিভাগের মালিকানাধীন পাহাড়ি গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত গাছখেকো রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফিরোজ আহমেদ ওরফে ফিরোজ মেম্বার।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘুর্ণিঝড় রেমালের সংকেত পাওয়ার পর গাছ কাটার মহোৎসব শুরু করেন ইউপি সদস্য। যাতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর গাছগুলো কেটে নেওয়া হয়েছে বলে দায় সারানো যায়। শুধু তিনি নন, পাহাড়-টিলা বেষ্টিত হলদিয়া ইউনিয়নের অন্তত চারটি স্থানে গাছ কাটার মহোৎসব। তবে নিরব প্রশাসন ও বনবিভাগ।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, হলদিয়া ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের আইলীখীল এলাকার পৃথক চারটি স্থানে কেটে ফেলা হচ্ছে বনবিভাগ ও ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড়-টিলার নানা প্রজাতির গাছ। নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে একদিকে পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। অন্যদিকে আশ্রয়স্থল হারাচ্ছে পশু-পাখি, কীটপতঙ্গ। তাই এখন আর দেখা মিলছে না শিয়াল, বেজি, খরগোশ, কাঠবিড়ালি, বানর, হনুমান, চিল, শকুন, ডাহুক, বাবুই, চড়ুইসহ আরও অনেক পশুপাখি।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. ফিরোজ বলেন, ‘জায়গাটি রাউজান রাবার বাগানের। বাগান কর্তৃপক্ষ ১৫-২০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তাই যারা গাছগুলো রোপণ করেছিলেন তারা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বড় বড় দেখায় আমি কয়েকটি গাছ কিনে নিয়েছি। আমার কাছে ফার্নিসারের তৈরির দোকান থাকায় ক্রয় করেছি।’
কাছ কাটার সঙ্গে জড়িত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ‘গাছগুলো কাটার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেছি। এছাড়া ফরেস্ট অফিসারকে ৪ হাজার টাকা দিয়ে আমরা গাছ কাটছি।’ বন বিভাগ বা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই শত শত গাছ কেটে নিলেও কারও কোনো মাথা ব্যাথা নেই কারো। এদিকে পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় গাছ কাটা বন্ধ করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।’ চ
ট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ইছামতি রেঞ্জের আওতাধিন রাউজান ঢালারমুখ স্টেশন অফিসের কর্মকর্তা উজ্জ্বল কান্তি মজুমদার বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। চেয়ারম্যানসহ তদন্ত করে মালিকানাধীন টিলা হওয়ায় আমি ফিরে আসি। আমাকে চার হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। গাছ কাটার স্থান থেকে কিছু পূর্বে স্থানীয় মেম্বার মো. ফিরোজ সরকারি বন বিভাগের মালিকানাধীন পাহাড় থেকে গাছ কাটার বিষয়ে আমাকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা কেউ সংবাদ দেয়নি।’