উখিয়ায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত অন্তত ১৫

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা হলদিয়াপালং ইউনিয়নের রুমখা হিন্দুপাড়া এলাকায় শ্মশান ঘাট সংস্কারের কাজে চাঁদা না পেয়ে দু গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহা আলমসহ দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে মনি মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সুত্রে জানায়, হিন্দুপাড়ার শ্মশান সংস্কারের কাজে মোটা অংকের টাকা চাদাঁ দাবি করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিক উদ্দিন। অধ্যক্ষ শাহা আলম তার দাবিকৃত চাঁদার টাকা দিতে বাধা প্রদান করলে স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিক উদ্দিনসহ তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা পরিকল্পিতভাবে অধ্যক্ষ শাহা আলমের উপর হামলা চালায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দফায় দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হয় নুরুল আলম (৪৭), সৈয়াদ হোসেন( ৪৬), সোরত আলম, (৫৫) নুরুল আলম (৭০) জাগির হোসাইন (৫৫) মোস্তফা শাকিল (২৬), শাহ মোহাম্মদ তারেক আজিজ (২৬), ফরিদ আলম (৪৭), শফিক আলম (২৫) শাহ জালাল মান্না (২৯) সহ আরও অনেক।

এ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অধ্যক্ষ শাহ আলম জানান, হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের ৯ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিক উদ্দিন সরকারি বেসরকারি প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ থেকে মোটা অংকের টাকা চাঁদা নেন। তার এসব চাদাঁবাজি থেকে শ্মশান ও কবরস্থানের কাজে পর্যন্ত বাদ যাচ্ছে না। একজন জনপ্রতিমিধির নির্দেশে রফিক মেম্বার তার একটি লাঠিয়াল বাহিনী সৃষ্টি করে এলাকায় এসব চাঁদাবাজি করে থাকে। তার এসব কর্মকান্ড চলছে দীর্ঘদিন ধরে। সর্বশেষ আজ শ্মশানে দান করা আমাদের খতিয়ানী জায়গায় উন্নয়নের চলমান কাজে চাঁদা দাবি করলে আমি বাধা প্রদান করাতে রফিক মেম্বারসহ তার সাঙ্গ- পাঙ্গরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার পরিবারের উপর দা, লাঠি, লোহার রড নিয়ে হামলা চালিয়ে অনেককে গুরতর জখম করেছে। বর্তমানে সবাই হসপিটালে ভর্তি রয়েছে। দু-একজনের অবস্থা আশংকাজনক।

তিনি আরো জানান, আমি এ ঘটনার নিরপেক্ষ সুস্থ বিচার দাবি করছি প্রশাসনসহ সর্বস্তরের কাছে।

এদিকে আহত মোস্তফা শাকিল জানান, রফিক মেম্বারের দাবিকৃত ২০ হাজার টাকার মধ্যে আজ ১০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য এলাকার এক ব্যাক্তি জিম্মা নিয়েছেন। তার দাবিকৃত চাদাঁর টাকা দিতে দেরি হওয়াতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রফিক উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শামীম হোসেন জানান, ঘটনাটি তদন্তপূর্বক প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।