বান্দরবানে সিসিটিভি ক্যামেরায় পাখির বাসা, বাড়ছে অপরাধ

২০২১ সালে বান্দরবান শহরের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন এবং শনাক্তের জন্য ৩৫ লাখ টাকা খরচ করে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ৭২টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। এসব সিসিটিভি ক্যামেরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য বান্দরবান পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছিল কন্ট্রোল রুম। কিন্তু বর্তমানে ৭২টি ক্যামেরার মধ্যে ৬৪টিই অকেজো। ফলে, শহরে বাড়ছে নানান অপরাধ।

জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবানের ২১-২২ অর্থ বছরের অর্থায়নে ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বান্দরবান শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন মোড়ে ৭২টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়। কিন্তু চলমান রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব সিসিটিভি ক্যামেরার ৬৪টিই এখন প্রায় অকেজো। অনেক জায়গায় কাটা পড়েছে তার। অনেক সিসিটিভি ক্যামেরার ভেতরে বেঁধেছে পাখির বাসা। ক্যামেরাগুলো ঠিকমতো কাজ না করায় বান্দরবানে ঘটে যাওয়া অনেক অপরাধ এখন অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে। দিনের পর দিন সংঘটিত অনেক অপরাধের কিনারা করতে পারছে না পুলিশ।

ভুক্তভোগী নগরবাসীর অভিযোগ, ফাঁকা বাড়িতে চুরি, মোটরসাইকেল চুরি, ছিনতাই, হাওয়া ছাড়াসহ অনেক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। ফলে মানুষের মাঝে আতঙ্ক আর ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় এসব দুষ্কর্মের ঘটনায় অপরাধীদের ধরতে সমস্যায় পড়ছে পুলিশ।

এদিকে গত ২৪ ডিসেম্বর ফাঁকা বাড়ি পেয়ে দিনের বেলায় বান্দরবান সদরের ৬ নং ওয়ার্ডের বনরুপা পাড়া এলাকায় মো. আনসারের বাসায় চোর ঢুকে দেড় ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ চুরি করে নিয়ে যায়। গৃহকর্তা মো. আনসার জানান, চুরির ঘটনাটি তিনি বান্দরবান সদর থানাকে অবগত করে জিডি করেন। জিডি করে সিসিটিভি ক্যামরার ফুটেজ দেখতে গেলে তা নষ্ট থাকায় দেখতে পারেননি।

বান্দরবান মুদি বাজার ব্যবসায়ীর সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাশ বলেন, আড়াই বছর আগে বান্দরবানের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ৭২টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। গত আগস্টে বান্দরবানে ভয়াবহ বন্যার কারণে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের নিচে পানি ওঠায় কন্ট্রোল রুমের সকল মেশিন ও অন্যান্য জিনিসপত্র অন্যত্রে সরিয়ে নেওয়ার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পানি কমে যাওয়ার পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় বিমল কান্তি দাশ ১ লাখ ২২ হাজার টাকা খরচ করে সংস্কারের কাজ করেন। কিন্তু আউটডোরের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব সিসিটিভি ক্যামেরার অধিকাংশই এখন নষ্ট হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ভালো আছে, তবে ইন্টারনেটে ও ডিসের ক্যাবল অপারেটররা কাজ করার সময় সিসিটিভি ক্যামেরার তারগুলো অনেক সময় কাটা পড়ে। ফলে সিসিটিভি ক্যামরাগুলো অচল হয়ে পড়েছে। বান্দরবানবাসীর সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সচল করতে আইনশৃংখলা কমিটির সভায় বলেছি। আশা করছি দ্রুত সচল হবে।