গত চার বছর ধরে বাংলাদেশে একই দিনে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা ফাল্গুন মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ বসন্ত উৎসব ও ভ্যালেন্টাইন’স ডে বা ভালোবাসা দিবস।
২০১৯ সাল পর্যন্ত ফেব্রুয়ারি মাসের ১৩ তারিখে বসন্ত উৎসব হতো আর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় ভ্যালেন্টাইন’স ডে।
কিন্তু এর পরের বছর থেকে বাংলাদেশে কেন দুটি দিবসই একই দিনে পালিত হচ্ছে? বাংলা বর্ষপঞ্জিতে সংশোধনের কারণেই এমনটা হয়েছে।
একই দিনে দুই উৎসব
বসন্ত উৎসবে সারাদেশের মানুষ মেতে উঠেছে বসন্তের পোশাক, ফুল এবং গানে।
আবার আজ একই থাকে ভ্যালেন্টাইন’স ডে হওয়াতে পোশাকের ভিন্নতা নজরে পড়েছে গত চার বছর ধরে।
যেভাবে একইদিনে বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস
২০১৯ সালে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরের মতো ঐতিহাসিক দিবসগুলোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলা বর্ষপঞ্জিতে সংশোধন আনা হয়। এক্ষেত্রে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীও বিবেচনায় রাখা হয়।
সংশোধিত বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, বাংলা বৈশাখ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাস ৩১ দিন, কার্তিক থেকে মাঘ মাস ৩০ দিন এবং ফাল্গুন মাস ২৯ দিন ধরে গণনা করা হবে। তবে গ্রেগরীয় পঞ্জিকার অধিবর্ষে ফাল্গুন মাস ২৯ দিনের পরিবর্তে ৩০ দিন গণনা করা হবে। সে হিসেবে পহেলা বৈশাখ আগের মতোই ১৪ এপ্রিলেই থাকবে। আর বসন্তের প্রথম দিন ধরা হচ্ছে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে।
ভালোবাসায় রঙিন বসন্ত
আজ পয়লা ফাল্গুন হলেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে গতকাল মঙ্গলবারই লেগেছে বসন্তের হাওয়া।
গতকাল বিকেলেই নগরের পথে পথে দেখা যায় বাসন্তী রঙে সেজে ঘুরতে বেরিয়েছেন শত শত মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, টিএসসি, রবীন্দ্র সরোবরসহ বিভিন্ন জায়গা মুখরিত ছিল বসন্ত-ভালোবাসার উৎসবে।
তবে বসন্তবরণ ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আজ দিনভর চলবে আনন্দ।
বর্তমানে বাংলাদেশের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে বসন্ত বরণ। সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে বসন্তের প্রথম দিন তথা পহেলা ফাল্গুন অন্যতম বৃহৎ সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।