জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
তরুন প্রজন্মের স্বপ্নের মেট্রোরেল এখণ নগরবাসীর জন্য আশির্বাদ। এই এক মেট্রোরেলই বদলে দিয়েছে ঢাকা যোগাযোগক্ষেত্রের সব হিসেবেনিকেশ। লাখ লাখ যাত্রী প্রতিদিন মেট্রোরেলে যাতায়াত করছেন। বাঁচছে সময় আর অর্থ। এবার সেই কাতারে যুক্ত হলেন সরকারের নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীও। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম সচিবালয় থেকে মেট্রোরেলে আগারগাঁওয়ে গিয়ে অফিস করলেন তিনি। সাধারণ যাত্রীর মতো লাইনে দাড়িয়ে উঠলেন মেট্রোরেলে।
বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ছিলো নৌ প্রতিমন্ত্রীর। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয় মেট্রোস্টেশন থেকে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে যাত্রা করেন নৌ প্রতিমন্ত্রী। মতিঝিল থেকে আসা মেট্রোরেলে তখন পা ফেলার জায়গা নেই। যাত্রীপূর্ন মেট্রোর একটি বগিতে শেষ পর্যন্ত অতি কষ্টে ওঠা সম্ভব হলো। পুরো কামড়া তখন যাত্রীতে ঠাসা। নড়াচড়া করার সুযোগ নেই। তবুও মানুষের মনে স্বস্তি। কারন ভোগান্তিহীণ এক শান্তির যাত্রা হয় মেট্রোরেলে। নেই যানজট, নেই হর্নের শব্দ। এসির ঠান্ডা বাতাসে দেখতে দেখতে পৌঁছে যান গন্তব্যে। ধীরে ধীরে কিভাবে বাংলাদেশ বদলে যাচ্ছে সেটিই যেতে যেতে বলছিলেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি একজন নাগরিক হিসেবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আগে সচিবালয় থেকে আগারগাঁওয়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করলেই মন খারাপ হয়ে হয়ে যেতো। এখন সেটা আনন্দের বিষয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোনার বাংলা গড়ে তুলার যে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন, দিন বদলের চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। আজকে বাংলাদেশ বদলে গেছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।”
মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আগারগাঁও চলে আসার বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আগে মতিঝিল থেকে মিরপুর পর্যন্ত যাতায়তে যাত্রীর নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে, এখন এই রোডে যানযট যেটা নিত্যদিনের ছিলো সেটা কিন্তু নাই। যাত্রীদের ভোগান্তি নাই। মাত্র কয়েক মিনিটেই চলে যাচ্ছে।’
“আমাদের মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা কর্মচারিরা এখন মেট্রো রেলে যাতায়াত করে। আগে যেখানে দুই ঘন্টা লাগতো এখন মাত্র ১০/১২ মিনিটে আগারগাঁও চলে যাচ্ছে, এখন দেড় ঘন্টার মত সময় বেঁচে গেছে। দেড় ঘন্টা যানজটে বসে থেকে একটা ক্লান্তি চলে আসতো, এখন সেই ক্লান্তিটা নাই।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখনই যেমন মিরপুর রোডে গণপরিবহনে যাত্রী নেই, চাপ নেই। আর এমআরটি লাইনের বাকিগুলো চালু হয়ে গেলে দেখবেন ঢাকার পরিবেশটাই সুন্দর হয়ে গেছে।”
ঢাকাবাসীর জন্য মেট্রোরেল আশির্বাদ উল্লেখ করে খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘আগামী দুই তিন বছরের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাবে। স্মার্ট বাংলঅদেশ গড়ার যে লক্ষ্যের কথা বলা হচ্ছে। মেট্রোরেল কিন্তু তারই একটি অংশ। এরপর দেখতে পারবেন যে ক্যাবল দিয়ে বুড়িগঙ্গা পার হচ্ছে মানুষ।’
১৫ বছরের যে উন্নয়ণটা হয়েছে তা রাজণৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা কিন্তু তাই বলছে। আজকে রাজণৈতিক কমিটমেন্টের জায়ঘা থৈরি হয়েছে। সরকারপ্রধান নিজেই নিজেই কমিডেট যে, আমি জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই। বাংলাদেশেকে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়তে চাই। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছাবো ইনশাল্লাহ। পরে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মেট্রোরেলের আগারগাও স্টেশনে নেমে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে সেখানে যান।