বাংলা চলচ্চিত্রের একজন কিংবদন্তি নায়ক ছিলেন রাজ্জাক। আশির দশকে তাকে “নায়করাজ” উপাধি দিয়েছিলেন প্রয়াত সাংবাদিক ও চিত্রনাট্যকার আহমদ জামান চৌধুরী। সে মানুষটি একাধারে একজন অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে চলচ্ছিত্র অঙ্গনে রেখে গেছেন অনবদ্য ভূমিকা ।
প্রয়াত গুণী এই অভিনেতার ৮২তম জন্মদিন আজ ২৩ জানুয়ারি। ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার পরিবারিক নাম আবদুর রাজ্জাক। তাঁর বাবার নাম আকবর হোসেন ও মাতার নাম নিসারুননেছা। রাজ্জাকরা ছিলেন নাকতলা এলাকার জমিদার।
স্বাধীনতার আগে ১৯৬৪ সালে ভারত ছেড়ে স্ত্রী লক্ষ্মী ও একমাত্র সন্তান বাপ্পারাজকে নিয়ে অনিশ্চিত গন্তব্যে ঢাকায় আসেন। ১৯৬৬ সালে ‘১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ সিনেমায় একটি ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক ঘটে। এরপর চলচ্চিত্রকার আবদুল জব্বার খানের সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
নায়ক হিসেব রাজ্জাকের প্রথম চলচ্চিত্র জহির রায়হান পরিচালিত ‘বেহুলা’। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ওপার বাংলায় জন্ম নিলেও এপার বাংলার রুপালি রঙেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন নায়করাজ। তবে শুধু নায়ক হিসেবে নয়, পরবর্তীতে বড় ভাই ও বাবার চরিত্রেও তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
‘আগুন নিয়ে খেলা’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘আলোর মিছিল’, ‘ছুটির ঘণ্টা’সহ মোট ৩০০টির বেশি বাংলা ও উর্দু ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বেশ দাপটের সঙ্গে ঢালিউডে সেরা নায়ক হয়ে অভিনয় করেন তিনি।
দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে নায়করাজ ২০১৫ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ পুরস্কারে ভূষিত হন। শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন মোট পাঁচবার। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পান ২০১৩ সালে। এছাড়াও বাচসাস পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।
২০১৭ সালের ২১ আগস্ট সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে ৭৫ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান ঢাকাই চলচ্চিত্রের এ অবিসংবাদিত রাজা।